বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রেরণে ডিজিটাল মাধ্যম এখন প্রবাসীদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ গত এক বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশে এনে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা বৈধ পথে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পাঠিয়েছেন, যা দেশের ৪১ লাখ বিকাশ গ্রাহকের কাছে সরাসরি পৌঁছে গেছে। এর আগের বছরের তুলনায় এই আয়ের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে প্রমাণ করে।
Table of Contents
বিকাশে রেমিট্যান্স প্রবাহের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয়ের বিবরণ | ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান |
| মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ | ২০,০০০ কোটি টাকা |
| সুবিধাভোগী বিকাশ হিসাবের সংখ্যা | ৪১ লাখ |
| দেশ ও অংশীদার সংখ্যা | ১৭০+ দেশ ও ১৩৫টি আন্তর্জাতিক অপারেটর |
| সরকারি নগদ প্রণোদনা | প্রতি হাজারে ২৫ টাকা |
| এটিএম ক্যাশ আউট চার্জ | প্রতি হাজারে মাত্র ৭ টাকা |
বৈশ্বিক সংযোগ ও সরকারি প্রণোদনা
বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশ থেকে ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) মাধ্যমে প্রবাসীরা নিমিষেই তাদের কষ্টার্জিত আয় বিকাশে পাঠাতে পারছেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের ২৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে যথাযথভাবে সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি করা হয়। বিশেষ সুবিধা হিসেবে, প্রবাসীরা যখন বিকাশে টাকা পাঠান, তখন প্রতি হাজারে ২৫ টাকা হারে সরকারি নগদ প্রণোদনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের হিসাবে যোগ হয়ে যায়। এর ফলে হুন্ডি বা অবৈধ পথ ত্যাগ করে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
এমএফএস খাতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সালে বাংলাদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের চেয়ে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। তথ্যানুযায়ী, এমএফএস-এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসার হার আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। দ্রুততম সময়ে টাকা পাওয়া এবং গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও টাকা উত্তোলন বা ব্যবহারের সুবিধা থাকায় প্রবাসীরা বিকাশকে বেছে নিচ্ছেন।
নতুন উদ্ভাবন ও গ্রাহক সেবা
বিকাশ কেবল অর্থ আদান-প্রদানই নয়, গ্রাহকদের জীবন সহজ করতে যুক্ত করেছে নতুন নতুন উদ্ভাবনী সেবা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
রেমিট্যান্স স্টেটমেন্ট: বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমেই এখন প্রবাসীর স্বজনরা তাদের প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারছেন, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
স্বল্প খরচে ক্যাশ আউট: দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আড়াই হাজারের বেশি এটিএম বুথ থেকে মাত্র ৭ টাকা (প্রতি হাজারে) খরচে টাকা উত্তোলনের সুবিধা পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।
সঞ্চয় বা ডিপিএস সুবিধা: বিদেশ থেকে আসা টাকা সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস বা সঞ্চয় হিসেবে রাখার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও এই প্রবাসী আয় দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধ এবং কেনাকাটার পেমেন্ট করার সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের হাতে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমেছে। বিকাশের এই অগ্রযাত্রা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
