নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বিসিবিকে। এর ফলে বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরে অংশ নিতে না পারার হতাশা যেমন রয়েছে, তেমনি ক্রিকেটারদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখতে ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ও সরকারি নির্দেশনা
বিপিএলের পর বর্তমানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অবসরে সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্বকাপের এই সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সাথে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। সরকারের পক্ষ থেকেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন বিশ্বকাপের সমান্তরালে দেশে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম নিশ্চিত করেছেন যে, বিসিবি খুব শীঘ্রই এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করবে।
নিচে প্রস্তাবিত এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য কাঠামো ও পরিকল্পনার একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
সারণি: বিসিবি আয়োজিত বিশেষ ওয়ানডে টুর্নামেন্টের রূপরেখা
| বিষয়ের বিবরণ | সম্ভাব্য তথ্য ও পরিকল্পনা |
| টুর্নামেন্টের ধরণ | ওয়ানডে (৫০ ওভার ফরম্যাট) |
| অংশগ্রহণকারী দল | ৪টি (জাতীয় দল ও ছায়া দলের ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে) |
| আয়োজনের সময় | ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস |
| প্রধান উদ্দেশ্য | বিশ্বকাপের অভাব পূরণ ও পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি |
| আর্থিক সুবিধা | অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ বোনাস ও ম্যাচ ফি |
| পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজ | মার্চ ২০২৬ (বনাম পাকিস্তান, ৩টি ওয়ানডে) |
কৌশলগত পরিকল্পনা ও সূচি পুনর্নির্ধারণ
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ এই টুর্নামেন্টটিকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখছে না, বরং এটি আগামী মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট কমিটির দেওয়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পূর্ববর্তী সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের আসর ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ’ (বিসিএল) হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিসিবি ওয়ানডে ফরম্যাটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ থাকায় চার দিনের ম্যাচ বা বিসিএল আসরটি মে মাসের ঠিক আগে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সুরক্ষা ও মানসিক সংহতি
বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় ক্রিকেটারদের যে বিপুল পরিমাণ ম্যাচ ফি ও আইসিসি বোনাস হাতছাড়া হচ্ছে, তা পুষিয়ে দিতে বিসিবি এই টুর্নামেন্টে আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এর ফলে ক্রিকেটারদের মনোবল চাঙ্গা থাকবে এবং তারা আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার আমেজ দেশেই পাবে। বিসিবির এই উদ্যোগকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ বিশ্বকাপের মৌসুমে জাতীয় দলের তারকাদের মাঠের লড়াই সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
