নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিএনপির একটি বৈঠকের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫)। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিজানুরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ছয়টি মামলার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির একটি বৈঠক চলছিল। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মিজানুর নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করে কথা বলতে থাকেন। এসময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী তাকে ধাওয়া করলে মিজানুর পালিয়ে যান।
রাত ১০টার দিকে একই এলাকায় কাজী বাড়ির সামনের রাস্তায় একদল লোক মিজানুরকে আটক করে। তারা লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। পিটুনির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা তার লাশ সড়কের ওপর ফেলে চলে যান। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। মিজান এসে নানা উল্টাপাল্টা কথা বলছিল। তাকে চলে যেতে বলা হলে তিনি চলে যান। পরে শুনেছি, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে।”
কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনজুর আলম জানান, “মিজানুর বিভিন্ন অভিযোগে দায়ী ছিলেন। তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
নিহতের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | মামলার সংখ্যা | অভিযোগের ধরন |
|---|---|---|---|---|
| মিজানুর রহমান (রনি) | ৩৫ | জৈনদপুর, কবিরহাট | ৬ | ডাকাতি ও অন্যান্য |
সকালে ওসি জানান, নিহতের পরিবার এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
