বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে গরমিল, ব্যবস্থাপক আটক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা কলতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন-এ জ্বালানি তেলের হিসাবপত্রে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। ফিলিং স্টেশনের মালিক উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুল হক, আর ব্যবস্থাপক জলিল হোসেন (৩০)। চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার তেলের বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও বিক্রি বা বিতরণের তথ্যের সঙ্গে বড় ধরনের মিল নেই। এ কারণে ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা (মনি) নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ব্যবস্থাপককে আটক করা হয়। পরে সহকারী সার্টিফিকেট অফিসার আফসারুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।

জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ও বিতরণ

ফিলিং স্টেশনের তেল প্রাপ্তি ও ব্যবস্থাপকের স্বীকারোক্তি নিম্নরূপ:

তারিখডিপো থেকে প্রাপ্ত তেল (লিটার)ব্যবস্থাপক স্বীকার (লিটার)বিতরণ অবস্থা
১ এপ্রিল১৩,৫০০বিক্রি হয়নি
২ এপ্রিল১৩,৫০০বিক্রি হয়নি
৩ এপ্রিল৯,০০০৯,০০০৪ এপ্রিল বিতরণ
৪ এপ্রিল১৩,৫০০বিক্রি হয়নি
৬ এপ্রিল৯,০০০বিক্রি হয়নি
৭ এপ্রিল৯,০০০বিক্রি হয়নি

মোট বরাদ্দ: ৫৮,৫০০ লিটার, যেখানে ব্যবস্থাপক স্বীকার করেছেন মাত্র ৯,০০০ লিটার। হিসাবের এই বিশৃঙ্খলা ফিলিং স্টেশনের অবৈধ মজুত বা অসৎ ব্যবসার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন উপস্থিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনে এই মাসে মাত্র একদিন তেল বিক্রি হয়েছে। তদারক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ এপ্রিল প্রাপ্ত তেল ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়।

মালিকের বক্তব্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল হক বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবস্থাপক যথাযথ তথ্য দিতে পারেননি। আদালতের মাধ্যমে সব সত্য উন্মোচিত হবে।”

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানিয়েছেন, “তেলের হিসাবপত্রে গরমিলের কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”

উপজেলার প্রশাসন এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করবে। এতে সাধারণ মানুষের তেলের নিশ্চয়তা বজায় থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এই ঘটনায় স্পষ্ট হলো যে, জ্বালানি তেলের স্বচ্ছতা ও হিসাবরক্ষণে ঘাটতি সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে তেল ব্যবসার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।