বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে উত্তপ্ত লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা (লালমনিরহাট-১) আসনে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাসাইটাড়ি এলাকায় সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পরে তা দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন এবং সংঘর্ষ বন্ধে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয়পক্ষই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এসময় মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের কারণে এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্কুল ও দোকানপাট কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। অনেক বাসিন্দা তাদের পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
স্থানকাসাইটাড়ি, টংভাঙ্গা ইউনিয়ন, হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট
সময়২৫ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর
মূল পক্ষবিএনপি, জামায়াত
আহতঅন্তত ১৫ জন
ক্ষতিমোটরসাইকেল ভাঙচুর, স্থানীয় এলাকা অস্থির
প্রশাসনের পদক্ষেপজেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‍্যাব ও বিজিবি উপস্থিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এ ধরনের সংঘর্ষ ভোটপ্রচারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে এই সংঘর্ষ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের তৎপরতা ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা এখনো বিদ্যমান। স্থানীয়রা প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ ও নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।