চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন যুবক নিহত এবং অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি হলেন সজীব, যিনি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমা ওয়ালা গ্রামের শাহ আলামের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের গ্যারেজে কর্মরত ছিলেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিতর্কটি স্থানীয়দের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি করলে, সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা আলিমের ওপর হামলা চালায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আলিমের স্ত্রী, তাহমিনা আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে এলাকার মানুষ ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। কিন্তু শাহাবুদ্দিন তার জনপ্রিয়তাকে মেনে নিতে নারাজ। মঙ্গলবার পরিষদে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং পরে চারটি সিএনজি ও দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।”
অন্যদিকে, শাহাবুদ্দিন জানান, একটি রিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় সালিশি বৈঠক হয়েছিল, যেখানে আলিম চোরের পক্ষে ছিলেন। ২০ হাজার টাকার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়, কিন্তু আলিম দীর্ঘদিন জামিনের টাকার পরিশোধ না করায় তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে ইফতার মাহফিলের পরে সংঘর্ষে সজীব নিহত হন।
পুলিশ ও আহতদের তথ্য
সীতাকুণ্ড মডেল থানার কর্মকর্তা মহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘর্ষে মোট ৭–৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত সজীবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ একটি বিশেষ টিম ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত রয়েছে।
| নাম | বয়স | অবস্থান | আহত/নিহত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| সজীব | ২৫ | খোরমা ওয়ালা গ্রাম | নিহত | শাহাবুদ্দিনের অনুসারীদের হামলায় নিহত |
| অজানা | – | – | আহত | স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত |
| অজানা | – | – | আহত | পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আহত |
| অজানা | – | – | আহত | গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি |
সামাজিক প্রভাব
ঘটনাটি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দলীয় আধিপত্যের লড়াইকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হওয়ায় এলাকার সামাজিক নিরাপত্তার উপর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সংলাপ এবং শান্তি রক্ষা পরিকল্পনা নেওয়া অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
