বিএনপির বিদ্রোহী সমর্থকের বাড়িতে আগুন হামলা

নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নে বিএনপির এক নেতার বাড়িতে পেট্রলবোমা ছুড়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ফলে দুই কক্ষের মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হুমায়ুন মোল্যা, হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, এবং নড়াইল-২ আসনের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থক। স্থানীয়ভাবে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য হন ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, যিনি প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সমর্থক। নির্বাচনের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ও রাতে দুই দফায় বাগডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৬ জন আহত হন। হুমায়ুনের পরিবারের দাবি, সংঘর্ষের কিছু সময় পর রাত আনুমানিক ১টার দিকে রিয়াজুল ইসলামের সমর্থকরা হুমায়ুনের বাড়ির উত্তর পাশে থাকা একটি ঘরে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। বিশাল শব্দে ঘুম ভেঙে হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যরা আগুনের চিহ্ন দেখতে পান। আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। হুমায়ুনের বোন রুলিকা বেগম বলেন,
“ভাবির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমাদের ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজন এ কাজ করেছে।”

তবে রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার আধা ঘণ্টা আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। এর মধ্যে কে বা কারা আগুন লাগাল, তা তদন্তে বের হবে। এটি পুরোপুরি ষড়যন্ত্র।”

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত চলছে। এছাড়া দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নড়াইল-২ এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার সাম্প্রতিক ঘটনা:

সময়কালঘটনাআহত সংখ্যামন্তব্য
নির্বাচনের পরদুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিস্থানীয় বিরোধমূলক মনোভাব
সোমবার সন্ধ্যাবাগডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষদুই দফায় সংঘর্ষ
রাত আনুমানিক ১টাহুমায়ুনের বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলামালামাল পুড়ে যায়

এই ঘটনার ফলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একসাথে কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য, এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।