আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক মিত্রদের দূরত্ব দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টির আবহে সোমবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর পল্টনে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন মোট ২৯টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ থাকা দলগুলোর নেতারা বৈঠকে বিএনপির প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ে বিএনপির সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন।
বৈঠকে অংশ নেন পাঁচ দলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, নেজামে ইসলামী পার্টি ও গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, সমমনা জোটের প্রধান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
বৈঠকে উপস্থিত অন্তত সাতটি দলের নেতা জানান, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে গেছে, আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে সেই অবস্থান থেকে দলটি সরে এসেছে বলেই তাদের মনে হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, বিএনপি এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে বসে কোনো আলোচনা না করেই একতরফাভাবে ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে মিত্রদের মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা সাইফুল হক বলেন,
“বিএনপি যে আচরণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা একলা চলো নীতি নিয়েছে। আমাদের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক বন্ধুত্বকে অবমূল্যায়ন করে দুই ধাপে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। এতে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।”
তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক পরিসর বিস্তারে চেষ্টা করছে, সেখানে বিএনপি উল্টো মিত্রদের ছেঁটে ফেলছে—যা ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “নির্বাচনের তফসিল হয়ে গেছে, অথচ এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে একবারও আলোচনায় বসেনি বিএনপি। নিজেদের ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে। তাহলে আমরা দাঁড়াব কোথায়?”
বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা—তথ্য এক নজরে
| ধাপ | ঘোষিত আসন সংখ্যা | তারিখ |
|---|---|---|
| প্রথম ধাপ | ২৩৭ | ৩ নভেম্বর |
| দ্বিতীয় ধাপ | ৩৬ | ৪ ডিসেম্বর |
| মোট ঘোষিত | ২৭২ | — |
| ফাঁকা আসন | ২৮ | শরিকদের দেওয়ার ইঙ্গিত |
মিত্রদের অভিযোগ, ধানের শীষ প্রতীকের জন্য কমপক্ষে ছয়টি আসনে অনিবন্ধিত মিত্রদলগুলোর নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু বিএনপি তাদের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, মিত্রদের মূল্যায়নে দলটি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি যেন আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্রটি জানায়, “বিএনপি কোনোভাবেই মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন চায় না। ঐক্য অটুট রেখে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চায় দলটি।”
