বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে দুইজন যাত্রী নিহত এবং অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের বাটাজোড় এলাকায়। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে দ্রুতগতিতে চলা যাত্রীবাহী বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। সংঘর্ষের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় বাসের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকে পড়েন এবং চিৎকার-আর্তনাদে এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতরা হলেন ইতি চক্রবর্তী (৪৫) এবং পবিত্র মজুমদার (৫০)। ইতি চক্রবর্তী বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং গুরুদাস চক্রবর্তীর স্ত্রী। পবিত্র মজুমদার স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং একটি স্বর্ণালংকার প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে বলে জানা যায়। পথিমধ্যে গৌরনদীর বাটাজোড় এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি অথবা যান্ত্রিক ত্রুটি—এই তিনটির যেকোনো একটি কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় জনগণও উদ্ধার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিচে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার সময় | ২৯ মার্চ, ভোর সাড়ে ৫টা |
| স্থান | বাটাজোড়, গৌরনদী, বরিশাল |
| পরিবহন | গ্রিনভিউ পরিবহন |
| রুট | ঢাকা থেকে বরগুনা |
| নিহতের সংখ্যা | ২ জন |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত কয়েকজন |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ |
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকার দিয়ে খাদ থেকে সরানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। চালকের ভূমিকা, যানবাহনের যান্ত্রিক অবস্থা এবং সড়কের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিবহন নিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
