অনৈতিক সর্ম্পকের জেরে বান্ধবীর হাতে খুন হন জেপি অর্থ সম্পাদক, মা-মেয়ে রিমান্ডে

অনৈতিক সর্ম্পকের জেরে বান্ধবীর হাতে খুন হন জেপি অর্থ সম্পাদক, মা-মেয়ে রিমান্ডে । রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের থেকে জাতীয় পার্টির (জেপি) অর্থ সম্পাদক আবদুস সালাম বাহাদুরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারা হলেন- সালামের বান্ধবী কামরুন্নাহার চাঁদনী ও তা মা মমতা বেগম।

বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

অনৈতিক সর্ম্পকের জেরে বান্ধবীর হাতে খুন হন জেপি অর্থ সম্পাদক, মা-মেয়ে রিমান্ডে

বুধবার তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার এইচএম আজিমুল হক বলেন, টাকা আদায়ে আবদুস সালাম বাহাদুরকে (৫৮) মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে গত শনিবার আটকে রেখে দুই দফায় পেটান কথিত বান্ধবী ও তার সহযোগীরা। পরে একটি লাল রঙের প্রাইভেট কারে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় সালামের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের জখমের চিহ্ন দেখতে পায়।

তিনি আরও বলেন, লাশটি কে বা কারা ফেলে রেখে গেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি অকার্যকর থাকায় প্রাপ্ত তথ্যগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানাতে পারেননি। নিহতের ভাই আবদুল করিম খলিফা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

ডিসি বলেন, মা ও মেয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ৫-৬ বছর আগে সালামের সঙ্গে ওই মেয়ের পরিচয় হয়। মেয়েটি তখন ধানমন্ডির একটি সুপার শপে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে সালামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। কিছুদিনের মধ্যে মেয়েটি বুঝতে পারে সালাম তাকে চাকরি দিতে পারবে না। এ বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে এ সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় মেয়ে।

তিনি বলেন, কিন্তু সালাম তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও আত্মীয়-স্বজনের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ দিতে থাকে। এরপর মেয়েটি কোনো উপায় না পেয়ে সে তার গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। পূর্ব কথোপকথনের জেরে শনিবার বিকেল ৩টায় সালাম মেয়েটির বাসায় পৌঁছায়। একপর্যায়ে মেয়ে ও তার  মার সালামের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সালামের আসার বিষয়টি মা-মেয়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন আগেই জানায়। তারা টাকার জন্য সালামকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে। যেহেতু তার বয়স বেশি ছিল তাই নানা শারীরিক সমস্যা ও মারপিটের কারণে দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষরণ হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

 আজিমুল হক বলেন, পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনার পথে সালামের মৃত্যু হয়। মাঝপথে কথিত বান্ধবী ও তাদের সঙ্গে আসা লোকজন গাড়ি থেকে নেমে যায় এবং তার মা সালামকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে ফেলে রেখে চলে যায়। প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

Leave a Comment