বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পুরাতন শিবাতলী এলাকায় ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টার দিকে রহিমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা গলাকাটা অবস্থায় নিহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
নিহত রহিমা বেগম ছিলেন আবু তালের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তার ছেলে নুরুল আমিন বলেন, “আমার মা দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। এই বয়সে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হৃদয়বিদারক। দোষীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি চাই।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অলিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
আলীকদম থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে মেজো ছেলের প্রথম স্ত্রীসহ দুই পুত্রবধূ রহিমা বেগমকে হত্যা করতে অংশ নিয়েছে। সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্য
| সূচক | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | রহিমা বেগম |
| বয়স | ৭০ বছর |
| ঠিকানা | ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন, আলীকদম, বান্দরবান |
| পারিবারিক অবস্থা | স্বামী: আবু তাল, ছেলে: নুরুল আমিন |
| শারীরিক অবস্থা | দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী, পক্ষাঘাত |
| উদ্ধার সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা |
| হত্যার ধরন | গলাকাটা হত্যা |
| সন্দেহভাজন | চারজন (দুই পুত্রবধূসহ) |
| তদন্ত | লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো, মামলা প্রক্রিয়াধীন |
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় অগ্রহণযোগ্য এবং তা পরিবারসহ সমাজকে শোকস্তব্ধ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ এবং পারিবারিক কলহ হত্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনার পর বান্দরবানের আলীকদমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃদ্ধা ও অসহায়দের প্রতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ এবং স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন যে, ন্যায়সঙ্গত বিচার সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
