ফুটবল বিশ্বের এক চরম আকর্ষণের দিনটি এবার বাতিল হয়ে গেল। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লা ফিনালিসিমা’, যা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের ক্যালেন্ডারে বিশেষভাবে চিহ্নিত ছিল। একদিকে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের সেরা দল ও ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাঠে নামার কথা ছিল ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও নতুন তারকা লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক জটিলতার কারণে ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
উয়েফা আজ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৭ মার্চ কাতারে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভেন্যু ও সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। তবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সঙ্গে নতুন সূচি এবং ভেন্যু নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
‘লা ফিনালিসিমা’ হলো কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নের মধ্যে খেলা হয়। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে আর্জেন্টিনা প্রথমবার এই ট্রফি জয় করেছিল। এবারও নতুন এক মহারণের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তা বাস্তবায়নকে ব্যর্থ করেছে।
উয়েফা বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে সবই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। নিম্নে উয়েফার প্রস্তাব ও আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| প্রস্তাব | ভেন্যু | আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়া | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| একক ম্যাচ | কাতার | রাজি নয় | বাতিল |
| একক ম্যাচ | সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, মাদ্রিদ | রাজি নয় | বাতিল |
| হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে | মাদ্রিদ ও বুয়েনস এইরেস | রাজি নয় | বাতিল |
| নিরপেক্ষ ইউরোপীয় ভেন্যু | ২৭/৩০ মার্চ | পুরোনো তারিখে খেলা সম্ভব নয় | বাতিল |
উয়েফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির জন্য লড়াই করার সুযোগ করে দিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” শেষ পর্যন্ত, ৩১ মার্চ খেলার সম্ভাবনাও বাস্তবায়ন হয়নি, ফলে ফাইনালটি স্থগিত হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি খেলাধুলার ঘটনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব ফুটবল ক্রীড়ার ওপর কতটা হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। যদিও ভক্তদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আগামী দিনে আবার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি লড়াই দেখার আশা এখনও রয়ে গেছে।
এই বাতিল ঘোষণার সঙ্গে ফুটবল বিশ্ব এবার এক ধরনের শূন্য সময়ের মুখোমুখি হলো, যেখানে উভয় পক্ষের খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা নতুন দিন, নতুন মাঠ এবং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন।
এই বাতিল ফিনালিসিমা স্পষ্ট করে দিয়েছে, কখনো কখনো রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি খেলাধুলার উত্তেজনাকেও স্থগিত করতে পারে।
