বাগদাদে মার্কিন নারী সাংবাদিক অপহৃত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ এক মার্কিন নারী সাংবাদিক অপহরণের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এই ঘটনার পরপরই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী শহরজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এবং অপহৃত সাংবাদিককে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একাধিক পুলিশ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, এক নারী সাংবাদিক অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও শুরুতে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, পরে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, অপহৃত সাংবাদিকের নাম শেলি কিটলসন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম আল–মনিটর জানিয়েছে, শেলি কিটলসন ইতালির রোম-এ বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত লিখতেন। তাঁর প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে যুদ্ধ, সংঘাত এবং মানবিক সংকটের বিষয়গুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাগদাদে একজন মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে থেকেই ইরাক সফর বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি ছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স শাখার সহকারী মন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং এখন তাঁকে দ্রুত উদ্ধারে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাধারণ পোশাকে থাকা চারজন ব্যক্তি জোরপূর্বক শেলি কিটলসনকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি বাগদাদের পূর্বাঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কাজ করা সাংবাদিক, গবেষক বা মানবাধিকারকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। নিচে সাম্প্রতিক একটি উল্লেখযোগ্য অপহরণ ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

বছরভুক্তভোগীপরিচয়অপহরণকারীমুক্তির সময়
২০২৩নাম প্রকাশ হয়নিপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া২০২৫

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালের মার্চে ইরাকে গবেষণারত এক বিদেশি শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হন, যিনি প্রায় দুই বছর পর মুক্তি পান। এই ধরনের ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং বিদেশিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম সফল না হলে এটি ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।