বাকলিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরের দিকে বাকলিয়া থানাধীন শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সাজ্জাদ হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার মোস্তফা সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে থামানো হয়। এ সময় বাসে থাকা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তল্লাশিতে ব্যাগের ভেতর থেকে মোট চল্লিশ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, যা কৌশলে বিভিন্ন স্তরে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব মাদকদ্রব্য কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করে রাজধানীমুখী পরিবহনের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছিল।

বাকলিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে বাসটি থামানো হয়। সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেই ওই যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয় এবং সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার রুট ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী পরিবহনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ছোট ও বড় চালান বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
স্থানবাকলিয়া থানা এলাকা, চট্টগ্রাম
সময়বৃহস্পতিবার ভোর
উদ্ধারকৃত মাদকইয়াবা ট্যাবলেট
পরিমাণ৪০,০০০ পিস
গ্রেপ্তারমো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৬)
রুটকক্সবাজার থেকে ঢাকা
আইনগত ব্যবস্থামাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তঃজেলা মাদক পাচার নেটওয়ার্কের আরও তথ্য উদঘাটনের আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।