সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে দুর্দান্তভাবে যাত্রা শুরু করেছে। নেপালের পোখারার রঙ্গশালায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে লাল-সবুজের মেয়েরা ভুটানকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। ম্যাচ জুড়ে বাংলাদেশের একক আধিপত্য স্পষ্ট ছিল; ভুটানের প্রতিরক্ষা বারবার ভাঙা পড়তে দেখা যায়, এবং পিটার বাটলারের দল কার্যত পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২৭ মিনিট। মামনি চাকমা কর্নার থেকে বাঁ পায়ের সুন্দর বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান। গোলটি এমন মুহূর্তের মধ্যে অন্যতম, যা বাংলাদেশের খেলার ধারাকে আরও তীব্র করে। গোলের সময় কিছুটা বিতর্ক ছিল—বল কি সরাসরি গিয়েছিল নাকি ভুটানের গোলকিপারের হাতে লেগেছিল, তা রিপ্লেতে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এটি বাংলাদেশের জন্য এক অলিম্পিক গোল হিসেবে গণ্য হয়। প্রথম গোলের পর দল আর পেছনে ফিরে তাকায়নি।
প্রথমার্ধেই আরও দুটি গোল করেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা, ফলে বিরতির সময় স্কোর ৩-০। বিরতির পর লাল-সবুজের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। একের পর এক আক্রমণে ভুটানের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেবে আলপি ও মুনকিরা। পঞ্চম গোল হজম করার পর ভুটান গোলকিপার পরিবর্তনে বাধ্য হয়, কিন্তু তাতেও তাদের রক্ষা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে বাংলাদেশের ষষ্ঠ গোল নিশ্চিত হয় এবং বাকি সময়ে আরও ছয় গোল যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত ১২-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
মাঠের অবস্থা ছিল কিছুটা প্রতিকূল। রঙ্গশালার বেশির ভাগ অংশে ঘাস নেই, মাটি এবড়োখেবড়ো ছিল। শুরুতে বল নিয়ন্ত্রণে মেয়েদের কিছুটা সমস্যা হলেও, তারা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে।
পরবর্তীতে, চার দেশের এই লিগ ভিত্তিক টুর্নামেন্টে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ৩:১৫-এ নেপাল ও ভারত মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যান
| বিভাগ | বাংলাদেশ জয় | টুর্নামেন্ট সংখ্যা | চ্যাম্পিয়ন হওয়া সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য বছর |
|---|---|---|---|---|
| অনূর্ধ্ব-১৮ | ৫/৬ | ৬ | ৫ | ২০১৮–২০২৩ |
| অনূর্ধ্ব-১৯ | ৬/৬ | ৬ | ৫ | ২০২৪ ঢাকায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন ভারত-বাংলাদেশ |
| অনূর্ধ্ব-২০ | ১ | ১ | ১ | ২০২৫ ঢাকায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ |
বাংলাদেশের মেয়েদের লক্ষ্য এবারও মুকুট ধরে রাখা। ইতিমধ্যেই ১২ গোলের বিশাল জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। পিটার বাটলারের নেতৃত্বে দল ফাইনালে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
