বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে: প্রধানমন্ত্রী 

বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে: প্রধানমন্ত্রী ।বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে  ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেলস্টেশনে তিনি উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর একটি বিশেষ ট্রেনে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা রওয়ানা হয়েছেন। এ সময় তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা নিজহাতেই টিকেট কাটেন। উদ্বোধনের সময় শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে রেলসংযোগ স্থাপন দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে: প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই জনসভাকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। 

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ করছে রেলওয়ে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার রেলপথ আজ চালু হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, এ মাসের শেষ দিকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চালুর লক্ষ্য রয়েছে। আর ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের জুন। ঢাকা-যশোর রেলপথ পুরোপুরি চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল নেটওয়ার্কে আসবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা। 

বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে: প্রধানমন্ত্রী 

রেল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিকে একটি ট্রেন পরিচালনা করা হবে। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের পক্ষ থেকে শুরুতে ঢাকা-রাজবাড়ী রুটে ট্রেন চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। 

অন্যদিকে রাজশাহী থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা পর্যন্ত আনারও পরিকল্পনা রয়েছে। 

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে চীন থেকে ১০০ নতুন কোচও কেনা হয়েছে। নতুন কোচ দিয়েই পদ্মাকেন্দ্রিক ট্রেনগুলো পরিচালনা করা হবে।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে কমলাপুর (ঢাকা) থেকে যশোর পর্যন্ত ২০টি স্টেশন থাকবে, এর মধ্যে ১৪টি স্টেশনই নতুন। পুরোনো ছয়টি স্টেশনকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উন্নত দেশের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে জংশন। ভাঙ্গা থেকে একটি লুপ লাইন ফরিদপুর সদর ও অন্য একটি লুপ লাইন নাগরকান্দা পর্যন্ত যাবে।

প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, এই প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৩ মে অনুমোদন করা হয়। শুরুতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ২২ মে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করা হয়, ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। 

এই রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে চীনের অর্থায়নে, সরকারের সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) চুক্তির ভিত্তিতে। প্রকল্পের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ (সিআরইসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ২৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। বাকি অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে।
প্রকল্পটি ঢাকা-যশোর-খুলনাকে ২১২.০৫ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত রুট দিয়ে বিকল্প রেলপথ সংযোগ স্থাপন করবে।

এটি বাংলাদেশে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আরেকটি উপ-রুট স্থাপন করবে এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালবাহী ও বিজি কন্টেইনার ট্রেন পরিষেবা চালু করবে। এই রুটটি কন্টেইনার বহনের জন্য গতি এবং লোড সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।

দক্ষিণ বঙ্গের সঙ্গে রেলযোগাযোগ স্থাপনের এই যুগান্তকারী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সড়ক পথে গণভবন থেকে মাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।  সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাওয়ায় পৌঁছান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

Leave a Comment