বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বৃহস্পতিবার ইন্টারব্যাংক স্পট মার্কেটে পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং দেশের রপ্তানি খাত ও প্রবাসী প্রেরিত অর্থ প্রবাহকে সমর্থন করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, “বিনিময় হারের ওঠানামা কমাতে এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা মাল্টিপল প্রাইস নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় করি। এটি দেশের রিজার্ভ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” ক্রয়কৃত ডলারের কেটে-অফ রেট নির্ধারিত হয়েছে ১২২.২৯ টাকা প্রতি ডলার, যা পূর্বের নিলামে ১২২.২৫ টাকার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই মাস থেকে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রিত ফ্রি-ফ্লোটিং ব্যবস্থার অধীনে ব্যাংকগুলো থেকে সরাসরি ডলার ক্রয় শুরু করে। ১৩ জুলাই থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রপ্তানি আয়ের প্রবাহ এবং প্রবাসী প্রেরিত রেমিট্যান্সকে নিশ্চিত করছি। এটি অর্থনীতির জন্য একটি সুদৃঢ় মুদ্রাগত সমর্থন হিসেবে কাজ করছে।”
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.২০ বিলিয়ন ডলারে, যা ২৭ নভেম্বরের ৩১.১২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মান অনুযায়ী (বিপিএম৬), একই সময়ে রিজার্ভ বেড়ে ২৬.৫১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা পূর্বের ২৬.৪০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে সম্প্রতি ডলার ক্রয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ক্রয়কৃত ডলার | ১ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার |
| ক্রয় তারিখ | বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| কেটে-অফ রেট | ১২২.২৯ টাকা প্রতি ডলার |
| পূর্বের নিলাম | ১২২.২৫ টাকা প্রতি ডলার |
| মোট ক্রয় (১৩ জুলাই থেকে) | ২.৪১ বিলিয়ন ডলার |
| মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ৩১.২০ বিলিয়ন ডলার |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সক্রিয় নীতি দেশের মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অর্থনীতির জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষত রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অর্থনীতিকে সামগ্রিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।
এই ক্রয় কার্যক্রম মূলত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
