আগামী ২২ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, যা সল্ট লেকের স্থায়ী বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারও দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের প্রকাশকরা মেলায় অংশ নিতে পারছেন না। এটি বাংলাদেশের প্যাভেলিয়নের দ্বিতীয়বারের মতো বাতিল হওয়া। নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশি প্রকাশক ও লেখকদের অনুপস্থিতি বইমেলা প্রেমীদের মধ্যে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রকাশকরা কলকাতা বইমেলায় অংশ নিয়ে সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তাদের বই উপস্থাপন করতেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পাঠকের মধ্যে বাংলাদেশি বইয়ের চাহিদা অনেক বেশি, যা মেলার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিককেই সমৃদ্ধ করত। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে গত বছরই বাংলাদেশি অংশগ্রহণ স্থগিত হয়েছিল। এবারের পরিস্থিতিও অনুরূপ।
কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি বলেন,
“বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না আসায় আমরা তাদের মেলায় যোগদানের অনুমতি দিতে পারছি না। তবে কোনো স্টলে যদি বাংলাদেশি বই রাখা হয়, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।”
এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, নিয়মিত অংশগ্রহণকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাজেট সংক্রান্ত কারণে এবারের মেলায় উপস্থিত থাকছে না।
তবে এবারের মেলায় কয়েকটি নতুনত্ব এসেছে। ইউক্রেন প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে এবং চীনের প্যাভেলিয়ন ১৫ বছরের বিরতির পর ফের ফিরেছে। এবারের থিম দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। মোট ২১টি দেশ এবং এক হাজারের বেশি স্থানীয় ও ভারতীয় রাজ্যের প্রকাশক মেলায় তাদের স্টল সাজাবেন।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| দেশ/অঞ্চল | অংশগ্রহণের অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | নেই | রাজনৈতিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | নেই | বাজেট অনুমোদন হয়নি |
| চীন | আছে | ১৫ বছর পর ফিরে এসেছে |
| ইউক্রেন | আছে | প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে |
| আর্জেন্টিনা | আছে | এবারের থিম দেশ |
| ভারত | আছে | স্থানীয় ও অন্যান্য রাজ্যের প্রকাশকরা উপস্থিত |
৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা হবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রকাশক, লেখক ও পাঠকের মিলনমঞ্চ, যেখানে সাহিত্যপ্রেমী একত্রিত হয়ে বই ও সংস্কৃতির উৎসব উদযাপন করবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মেলার উদ্বোধন করবেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ-বাণিজ্যিক বইমেলা এবং জনসমাগমের দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
