সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর পর এবার বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন প্রবাসী প্রতিভা শায়লা মদিনা আহমেদ। ২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া ১৬ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বয়সভিত্তিক দলের জন্য বিবেচনা করছে। প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শায়লা বর্তমানে ইংল্যান্ডে নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন করছেন। তার ফুটবল যাত্রা ২০১৫ সালের আগস্টে এক বড় মাইলফলক অতিক্রম করে, যখন তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ‘ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে যোগ দেন। এই প্রোগ্রামটি বিশ্বজুড়ে এলিট পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির জন্য সুপরিচিত।
অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়ার আগে শায়লা নর্থহ্যাম্পটন টাউন এফসি গার্লস এলিট একাডেমি-র জন্য অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে দুই মৌসুমে ১৭টি গোল এবং ২২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০-২১ মৌসুমে তাকে নর্থহ্যাম্পটনের ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম শায়লার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা তাকে এখনই সিনিয়র দলের সঙ্গে খেলাতে চাই না। প্রথমে বয়সভিত্তিক দলের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবে। ইনশাআল্লাহ, শায়লা যুব দলের হয়ে বাংলাদেশে আসবে। আমরা নিয়মিত তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। গত বছর থেকেই তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
ফাহাদ করিম আরও জানিয়েছেন, শায়লাকে আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অনুযায়ী প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরই তাকে দলের সঙ্গে দেখা যেতে পারে।”
নিচের টেবিলে শায়লার মূল তথ্য ও ফুটবল যাত্রার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলোঃ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শায়লা মদিনা আহমেদ |
| জন্ম সাল | ২০০৯ |
| বয়স | ১৬ বছর |
| বর্তমান ক্লাব | অ্যাস্টন ভিলা, ইংল্যান্ড |
| প্রাক্তন একাডেমি | নর্থহ্যাম্পটন টাউন এফসি গার্লস এলিট একাডেমি |
| বিশেষ অর্জন | নর্থহ্যাম্পটনের ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ ২০২০-২১ |
| জাতীয় দলের সুযোগ | বয়সভিত্তিক যুব দল (উপ-১৭/উপ-১৯/উপ-২০) |
| পদের ধরন | ফরোয়ার্ড |
| স্কলারশিপ | অ্যাস্টন ভিলা ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পূর্ণ) |
শায়লার এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের নারী ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণের ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ইংল্যান্ডের উচ্চমানের একাডেমিক প্রশিক্ষণ যুব দলের শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে।
