বাংলাদেশের সামরিক ক্রয় কার্যক্রম ত্বরান্বিত

গত আঠারো মাসে বাংলাদেশের caretaker সরকার একাধিক উচ্চপ্রাধান্যপূর্ণ দায়িত্ব সামলিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, ২০১৬ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচারের তদারকি, এবং আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি। তবে সবচেয়ে সুস্পষ্ট এবং কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণকে ধরা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক চুক্তি, সরঞ্জাম ক্রয় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সরকার পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে একাধিক ক্রয় ও আলোচনা করেছে। এখানে যুদ্ধবিমান, আক্রমণ হেলিকপ্টার, সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজের ক্রয় অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে চীনের CETC International-এর সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধান প্রতিরক্ষা ক্রয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়

ক্রয়কৃত সামগ্রীউৎস দেশ / সংস্থাপরিমাণ / পরিকল্পনাআনুমানিক ব্যয় (কোটি টাকায়)লক্ষ্য / মন্তব্য
JF-17 Block III যুদ্ধবিমানপাকিস্তান১২৮,৮৫৬উন্নত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৪.৫-জেনারেশনের বহুমুখী জেট
J-10C যুদ্ধবিমানচীন২০২৭,০৬০বহুমুখী অপারেশনের জন্য MRCA জেট; ১০টি বিদ্যমান স্কোয়াড্রন সম্প্রসারণ
Eurofighter Typhoonইউরোপ (UK, জার্মানি, ইতালি, স্পেন)১০৫৫,০০০ ফুটের উপরে কার্যক্ষম সুপারসনিক জেট
T-129 আক্রমণ হেলিকপ্টারতুরস্ক২০ মিমি গান, ক্ষেপণাস্ত্রসহ; দিন-রাত কার্যক্ষম
BNS Khalid যুদ্ধজাহাজ আপগ্রেডতুরস্ক / নির্ধারিত সংস্থা৬৫০নৌ শক্তি বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ
সাবমেরিনদক্ষিণ কোরিয়াআলোচনা চলমানসামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা
Black Hawk হেলিকপ্টারযুক্তরাষ্ট্রসেনা পরিবহন, চিকিৎসা সরবরাহ, বিশেষ অভিযান
স্থির-পাখি যুদ্ধবিমানযুক্তরাষ্ট্রবিমান বাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি

এই ক্রয়সমূহ বাংলাদেশের “Goal 2030” পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য হল সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বহুপক্ষীয় ক্রয় নীতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন যে সরকারকে প্রথমে প্রতিষ্ঠান সংস্কার, বিচারিক দায়বদ্ধতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করা উচিত।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক দিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুদ্ধবিমান চুক্তি, ইউরোপের সঙ্গে টাইফুন বিমান সংগ্রহ এবং চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর—all মিলিয়ে বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যয়সাপেক্ষ হলেও, এই উদ্যোগগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।