পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সম্প্রতি প্রকাশ্যে বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশকে অন্যায় করা হচ্ছে। লাহোরে শনিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘অতীতে যেভাবে ভারত ও পাকিস্তানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, যদি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়, তবে পাকিস্তান দল সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। মহসিন নাকভি জানান, ‘আমি আইসিসি বোর্ডের মিটিংয়ে সরাসরি বলেছি, দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করা ঠিক নয়। যেখানে একটি দেশ চাইলে সুবিধা পায়, সেখানে অন্য দেশের ক্ষেত্রে বিপরীত আচরণ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
গতকাল আইসিসির প্রধান নির্বাহী (সিইও) সাঞ্জোগ গুপ্তা বোর্ডের সব সদস্যকে পাঠানো এক চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশকে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান আইসিসির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য একটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আইসিসির আর কোনো বিকল্প নেই।
বিস্তারিত অনুসারে, আইসিসি গত বুধবার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে জানান, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়।
বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্কটিশ দল বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি তারা ইতালির সঙ্গে, ১৪ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে।
নিচের টেবিলে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডের সূচি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তারিখ | ভেন্যু | প্রতিপক্ষ | ম্যাচ পর্যায় |
|---|---|---|---|
| ৭ ফেব্রুয়ারি | কলকাতা | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | গ্রুপ ম্যাচ |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | কলকাতা | ইতালি | গ্রুপ ম্যাচ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | কলকাতা | ইংল্যান্ড | গ্রুপ ম্যাচ |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | মুম্বাই | নেপাল | গ্রুপ শেষ ম্যাচ |
মহসিন নাকভির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশকে সুযোগ না দেওয়া হলে আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে আরও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
