আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং সেশন আয়োজন করেছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং কারিগরি সহায়তার সার্বিক কাঠামো নিয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
Table of Contents
নির্বাচন সহায়তায় জাতিসংঘের ভূমিকা
ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ জানায়, তারা “ব্যালট প্রকল্প” নামে একটি বৃহৎ কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে—
নির্বাচন কমিশনের কার্যকরী সক্ষমতা বৃদ্ধি
বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
ভোটার ও নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম
নির্বাচন–সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহ
তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেন, এসব সহযোগিতার উদ্দেশ্য হলো একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেদের মতামত, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
ব্যালট প্রকল্প: আড়াই কোটি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সাফল্য
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ব্যালট প্রকল্প এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে ভোটার নিবন্ধন খাতে। নিবন্ধিত ১২ কোটি ভোটারের পাশাপাশি আরও প্রায় ৮০ লাখ নতুন ভোটার—যার মধ্যে ৩৮ লাখ পুরুষ এবং ৪০ লাখের বেশি নারী—নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিসর এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ একটি অগ্রগতি।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ব্রিফিংয়ের তাৎপর্য
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও প্রশ্ন দেখা যায়, জাতিসংঘের ব্রিফিং সেটি আংশিকভাবে প্রশমিত করেছে। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি জানতে চান—এসব সহায়তা নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কীভাবে ভূমিকা রাখবে এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কি যথাযথভাবে বজায় থাকবে?
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেন যে, তাদের ভূমিকা সম্পূর্ণ কারিগরি, এবং তারা নির্বাচন পরিচালনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার নয়। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রদানই তাদের লক্ষ্য।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘের এই যোগাযোগ কাঠামো মূলত স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা। নির্বাচনী উত্তাপের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সরাসরি তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ভুল ধারণা কমে এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ সম্পর্কে স্পষ্টতা বাড়ে।
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন ব্যবস্থার বিকাশের ক্ষেত্রে ‘ব্যালট প্রকল্প’ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে নারী ভোটারের ব্যাপক অন্তর্ভুক্তি ও তরুণ ভোটার যুক্ত হওয়া—আগামী নির্বাচনী চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
