বাংলাদেশি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের কীর্তি: ১৮০০টি বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন

বাংলাদেশে কিডনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নাম সব কিছুর উপরে দাঁড়ায়—সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম। আগামী শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, তিনি একটি বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন, যখন তিনি তার ১,৮০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করবেন, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা জাতীয় চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তিনি বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো দক্ষ প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞের ঘাটতি, ওষুধের উচ্চ মূল্য, আইনি জটিলতা এবং মৃতদেহ থেকে অঙ্গ দানের বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব।

ড. কামরুল ইসলাম আরও জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১০,০০০ জন মানুষকে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। তবে বাস্তবে বছরে মাত্র ৩৬৫টি অপারেশন সম্পন্ন হয়, যা মোট চাহিদার মাত্র ৩.৬৫%। গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনের এক বছর পর রোগীদের ৯৬% সুস্থ থাকে। তবে দশ বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগী মারা যান, যার বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ সংক্রমণ, কিডনি ব্যর্থতা নয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ কিডনি রোগী রয়েছেন, যার মধ্যে ৪০,০০০ জন ডায়ালাইসিসে নির্ভরশীল। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিস্থাপনকৃত রোগীদের “শিশুর মতো” অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন, কারণ সামান্য সংক্রমণও জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বিষয়পরিসংখ্যান
মোট কিডনি রোগী৩ কোটি ৮০ লাখ
ডায়ালাইসিসে নির্ভরশীল৪০,০০০ জন
বার্ষিক প্রয়োজনীয় কিডনি প্রতিস্থাপনপ্রায় ১০,০০০
বাস্তবে প্রতি বছর সম্পন্ন কিডনি প্রতিস্থাপন৩৬৫টি (৩.৬৫%)
এক বছর পর রোগীর সুস্থতার হার৯৬%
দশ বছর পর রোগীর মৃত্যুর হারপ্রায় ৫০%, প্রধানত সংক্রমণের কারণে
ড. কামরুল ইসলামের বিনামূল্যে প্রতিস্থাপনের সংখ্যা১,৮০০ (সঞ্চালিত হতে যাচ্ছে)

ড. কামরুল ইসলামের চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগীর প্রতি আন্তরিক যত্ন এবং অসাধারণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশে কিডনি চিকিৎসার মানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার অবদান কেবল রোগীদের জীবন বাঁচিয়ে রাখে না, বরং চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও উৎকর্ষতার প্রতীক হিসেবে তার পরিচয় তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ড. কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে দেশের কিডনি চিকিৎসা খাতে আরও দক্ষতা, সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাবে। তার উদারতা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে অসংখ্য পরিবার নতুন জীবন পাওয়ার আশা পাচ্ছে।