বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভাষা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষাকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে ভাষা ব্যবহারে সচেতনতা, শুদ্ধতা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। অ-বাংলা স্লোগান ও শব্দচর্চার প্রবণতা থেকে সরে এসে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মুখে বিভিন্ন বিদেশি বা অ-বাংলা স্লোগানের ব্যবহার তাকে ব্যথিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার চর্চায় শুদ্ধতা বজায় রাখা জাতীয় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে যদি আমরা মায়ের ভাষা হিসেবে সম্মান করতে চাই, তবে ভাষা ব্যবহারে আত্মসমালোচনা জরুরি। যেসব শব্দ বা স্লোগানের সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই, সেগুলো অযথা ব্যবহার করা উচিত নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, ইতিহাস-সচেতনতা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট চর্চা না থাকায় জাতীয়তাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের তাৎপর্য এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক—এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ—

বিষয়বস্তুমূল বক্তব্য
ভাষার শুদ্ধ চর্চামাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন
ইতিহাসচর্চাভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা জরুরি
জাতীয়তাবোধভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জাতীয় চেতনা জাগ্রত করে
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাসঠিক ভাষা ব্যবহার ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা পালন

 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সবাইকে সম্মিলিতভাবে মাতৃভাষার চর্চা ও সংরক্ষণে কাজ করতে হবে।

সচেতন মহলের মতে, ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পেলে জাতীয় ঐক্য ও আত্মপরিচয় আরও সুদৃঢ় হবে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের আলোচনা ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।