রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তরুণ আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে জোবায়ের বর্ণনা করেছেন কীভাবে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দফায় পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে নাঈম কিবরিয়ার প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন তালিকাভুক্ত আইনজীবী ছিলেন। গত ১ জানুয়ারি রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। ঘটনার পর নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর র্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ৪ জানুয়ারি গুলশান এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত জোবায়ের হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের জবানবন্দির সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যা মামলার বিবরণ ও ঘটনাক্রম
| তথ্যের ধরণ | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহত ব্যক্তি | নাঈম কিবরিয়া (আইনজীবী, পাবনা জেলা জজ আদালত) |
| স্বীকারোক্তি প্রদানকারী | মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) |
| ঘটনার সূত্রপাত | মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সামান্য ধাক্কা লাগা |
| প্রথম দফার হামলা | আই ব্লক, ৭ নম্বর সড়ক; ধাওয়া করে গতিরোধ ও মারধর |
| দ্বিতীয় দফার হামলা | আই ব্লক, ১৫ নম্বর সড়ক; নির্জন স্থানে নিয়ে পুনরায় গণপিটুনি |
| উদ্ধার ও মৃত্যু | রাত ১০:৪৫ মিনিটে উদ্ধার; কুর্মিটোলা হাসপাতালে মৃত ঘোষণা |
| আইনি প্রক্রিয়া | ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ ও তদন্ত অব্যাহত |
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান আদালতকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও জোবায়েরের জবানবন্দি থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি একটি পরিকল্পিত গণপিটুনির ঘটনা। নাঈম কিবরিয়ার গাড়ি একটি মোটরসাইকেলকে সামান্য ধাক্কা দিলে জোবায়েরসহ আরও কয়েকজন একাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁকে ধাওয়া করেন। ৭ নম্বর সড়কের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে ১৫ নম্বর সড়কের নির্জন অংশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও ৭-৮ জন যুবক মিলে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় পিটিয়ে গুরুতর জগত জখম করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, জোবায়েরের জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা অত্যন্ত হিংস্রভাবে একজন আইনজীবীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান আরও জানান, নাঈমের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই মামলার পলাতক বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
