বলিউড পরিচালক এমএম বেগ প্রয়াণ সংবাদ

মুম্বাইয়ের নিজ বাসা থেকে বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ও সহ-পরিচালক এমএম বেগ-এর পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে এই দুঃসংবাদটি প্রকাশিত হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিচালকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা হানি জাওয়েরি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এমএম বেগ। চার-পাঁচ দিন ধরে বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে মৃতদেহটি দেখতে পান। দ্রুত লাশ কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।

ক্যারিয়ার ও অবদান

বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এমএম বেগ। তাঁর কর্মজীবন জুড়ে তিনি কাজ করেছেন বিশিষ্ট পরিচালক জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার এবং রাকেশ রোশন-এর সঙ্গে। তাঁর সহ-পরিচালকত্বে তৈরি সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল:

সিনেমার নামঅবদাননোট
আদমি খিলোনা হ্যায়সহ-পরিচালকমূলধারার চলচ্চিত্র
জৈসি করনি ওয়াইস ভরনিসহ-পরিচালকপ্রাথমিক পরিচিতি লাভ
কর্জ চুকানা হ্যায়সহ-পরিচালকজনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে
কালা বাজারসহ-পরিচালককমার্শিয়াল সাফল্য
কিশন কানহাইয়াসহ-পরিচালকসামাজিক থিমে নির্মিত

পরিচালক হিসেবে তিনি ‘মাসুম গাওয়াহ’ পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তবে এই চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়নি। এছাড়াও শিল্পা শিরোদকরের ‘ছোটি বাহু’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।

পরিবার ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এমএম বেগের কন্যা শাহিন্দা বেগ, যিনি শিল্পী নাম বেডি গুড্ডু-তে পরিচিত, ছোটবেলায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বহু সহকর্মী ও অনুরাগীরা পরিচালক এমএম বেগের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মীরা তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণে নৈপুণ্য, সততা ও নতুন প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার পদ্ধতিকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বলিউডে তাঁর অবদান এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোট ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বলা যায়, এমএম বেগ ছিলেন সহ-পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে বলিউডের অন্যতম দায়িত্বশীল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাঁর কাজ নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।