বলিউড তারকার রেস্তোরাঁর দামের বিস্ময়

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা আরোরা অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করেছেন অত্যন্ত সফলভাবে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় অবস্থিত তার রেস্তোরাঁ ‘স্কারলেট হাউজ’ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ খাবারের তুলনামূলকভাবে উচ্চমূল্য নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

রেস্তোরাঁটি একটি ৯০ বছরের পুরনো পর্তুগিজ বাংলোতে স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। মালাইকা আরোরা ও তার ছেলে আরহান খান এর অর্ধেক মালিকানা ভাগাভাগি করেছেন। ১০০ আসন বিশিষ্ট এই রেস্তোরাঁটি নান্দনিক ও আধুনিক অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার জন্য ইতিমধ্যেই বলিউডের পরিচিত তারকাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মালাইকা নিজেই জানিয়েছেন, রেস্তোরাঁর মেনু তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও ডায়েটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকরা খাবারের মূল্য দেখে বিস্মিত হচ্ছেন।

‘স্কারলেট হাউজ’-এর কিছু জনপ্রিয় খাবার ও পানীয়ের দাম (ভারতীয় রুপি ও প্রায় বাংলাদেশি টাকায়)

খাবারের নামদাম (রুপি)প্রায় বাংলাদেশি টাকা (BDT)
সাধারণ মশলা খিচুড়ি৫৫০৭৫০
অ্যাভোকাডো টোস্ট৬২৫৮৫০
বিশেষ সালাদ৭২০৯৭৫
লুধিয়ানার বাটার চিকেন৭৫০১,০২০
বোতল পানি৩৫০৪৭৫
বিট ও বেদানার বিশেষ পানীয়৪৫০৬১০
শ্যাম্পেন/ককটেল২৯,০০০৩৯,৫০০

খাবারের পাশাপাশি পানীয়ের দামও সাধারণ গ্রাহককে চমকে দিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত বোতল পানি ৩৫০ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭৫ টাকা) এবং বিট ও বেদানার বিশেষ পানীয় ৪৫০ রুপি (প্রায় ৬১০ টাকা) দামে পরিবেশন করা হচ্ছে। অভিজাত শ্যাম্পেন বা ককটেলের দাম ২৯ হাজার রুপি পর্যন্ত ওঠে।

নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে এই উচ্চমূল্যের খাবারের ছবি এবং মেনুর দাম শেয়ার করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটি ‘লাক্সারি অভিজ্ঞতা’ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে সাধারণ খাবারের এত উচ্চমূল্যকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করছেন।

বলিউডের অনেক তারকাকেও ইতিমধ্যেই এই রেস্তোরাঁয় খাওয়াতে দেখা গেছে। মালাইকা আরোরা বলেন, “আমি যা খাই, যা পছন্দ করি, সেই অনুপ্রেরণাতেই মেনু তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য গ্রাহককে স্বাস্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজাত অভিজ্ঞতা দেওয়া।”

সারসংক্ষেপে, ‘স্কারলেট হাউজ’ শুধু খাবারের জন্য নয়, বরং অভিজাত ও স্বাস্থ্য সচেতন জীবনধারার প্রতিফলন হিসেবে মুম্বাইয়ে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে। তবে সাধারণ খাবারের উচ্চমূল্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনও কমেনি।