বরেণ্য অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা শামস সুমন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিনেতা সুজাত শিমুল গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামস সুমন। অসুস্থতার কথা তিনি সহকর্মী অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান। দ্রুত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

শামস সুমন ছিলেন বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের এক সময়ের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেন। বিশেষ করে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর স্বতন্ত্র দক্ষতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। এটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমের প্রশাসনিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’ এবং ‘হ্যালো অমিত’। প্রতিটি কাজেই তিনি চরিত্রের গভীরতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যা তাঁকে সমকালীন অভিনেতাদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।

নিচে তাঁর জীবন ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
নামশামস সুমন
বয়স৬১ বছর
মৃত্যুর তারিখমঙ্গলবার, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা
মৃত্যুর কারণকার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (প্রাথমিক ধারণা)
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০০৮)
উল্লেখযোগ্য কাজ‘স্বপ্নপূরণ’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আয়না কাহিনি’ প্রভৃতি
পেশাগত ভূমিকাস্টেশন প্রধান (রেডিও ভূমি), পরিচালক (চ্যানেল আই)

পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

শামস সুমনের মৃত্যুতে সহকর্মী, ভক্ত এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিনয়, কর্মনিষ্ঠা এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।