বরিশালে ভোটকেন্দ্রে ৪ সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চলমান জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতের দিকে বরিশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বারকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রে চারজন সহকারী ভোটাধিকারীকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা ওই কর্মকর্তাদের আটক করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হোসনা জানান, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করার কারণে চারজন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের নাম এবং পদবী নিম্নরূপ:

নামপদবী
মোঃ সাব্বির হোসেনসহকারী সভাপতি কর্মকর্তা
মোঃ কবির হোসেনসহকারী সভাপতি কর্মকর্তা
মোঃ সাখাওয়াত হোসেনসহকারী সভাপতি কর্মকর্তা
হাবিবুর রহমানসহকারী সভাপতি কর্মকর্তা

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রের সভাপতি কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, “চারজন কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া রাতের সময়ে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেছিল। স্থানীয়রা তাদের আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা শৃঙ্খলা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।”

ইউএনও আসমা উল হোসনা আরও বলেন, “দায়িত্বের সময় সভাপতি কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কেন্দ্রের বাইরে থাকা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। শৃঙ্খলাভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তারা রাত ১:৩০ মিনিটের দিকে মোঃ রাশেদ বেপারী, ইউনিয়নের জামায়াত-ই-ইসলামী শাখার সাধারণ সম্পাদক, এর বাসভবনে বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় আটক হন। এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর কেন্দ্রের চারজন নতুন সহকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। ভোটারদের সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও রেড ক্রস কর্মীও কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হলেও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছেন। মি. শিপন বলেন, “এ ধরনের আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি স্বরূপ। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।” আব্দুস সালাম মন্তব্য করেছেন, “সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে, কিন্তু পুনরাবৃত্তি রোধে ধারাবাহিক নজরদারি জরুরি।”

প্রশাসন পুনরায় জানিয়েছে যে যেকোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না এবং শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও সফল নির্বাচনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।