বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে কুমারখালীর মিলনমেলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈদের ছুটিতে আয়োজন করা একটি বিশেষ বন্ধু মিলনমেলা সম্প্রতি শহরের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। দীর্ঘ দুই দশক আগে এসএসসি পাশ করা বন্ধুরা এবার স্মৃতির আঙিনায় ফিরে এসে নিজেদের কৈশোরের উচ্ছ্বাস আবার জীবন্ত করে তোলেন।

রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ মুখরোচক উৎসবে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘বন্ধু উৎসব কুমারখালী’ হিসেবে। শহরের প্রধান সড়কগুলো রঙ-বেরঙের ভ্যান র‌্যালি, আতশবাজি ও পটকা-আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। র‌্যালিতে কেবল বন্ধুদেরই নয়, তাদের পরিবারবর্গও অংশ নেন, যা পুরো উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

মূল আকর্ষণ ছিল প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, যেখানে দুই ব্যাচের বন্ধুদের মধ্যে ভাগ করা হয় দুটি দল:

দলব্যাচদলীয় নামবৈশিষ্ট্য
দল A1998ফকির ওয়ারিয়র্স ৯৮বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, হাস্যরসপ্রধান খেলা
দল B1999মিসকিন মনস্টার ৯৯প্রাণবন্ত লড়াই, বন্ধুত্বের উদযাপন

মাঠে প্রতিযোগিতা শুরু হয় ব্যাট ও বলের মাধ্যমে। খেলোয়াড়রা যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখান, তেমনই সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-মজার মুহূর্ত উপভোগ করেন। খেলার শেষে জয় আসে ফকির ওয়ারিয়র্স ৯৮-এর হাতে, তবে মিসকিন মনস্টার ৯৯ দল কোনোকিছুতে মন খারাপ করেনি। দিনশেষে ট্রফি ছিল শুধু প্রতীক; প্রকৃত জয় হয়েছিল বন্ধুত্বের।

উৎসবে উপস্থিত কবি ও নাট্যকার এ জে রতন বলেন,
“প্রতি বছর আমরা অপেক্ষা করি কবে সবাই একসাথে হবো। কর্মব্যস্ত জীবনে এই ছোট ছোট আনন্দগুলোই আমাদের বেঁচে থাকার টনিক।”

বন্ধুদের মজার দলীয় নামকরণ, রঙিন র‌্যালি এবং মাঠে হাস্যরসপূর্ণ খেলার পরিবেশ শহরের মানুষের আগ্রহকে আরও বৃদ্ধি করেছে। দর্শকরা মাঠের চারপাশে ভিড় জমান, খেলোয়াড়দের খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন।

দিনভর চলা এই আয়োজন পুরস্কার বিতরণ ও আনন্দঘন মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। ‘বন্ধু উৎসব কুমারখালী’ উদ্যোক্তাদের মতে, এটি কেবল ক্রিকেট খেলা নয়; বরং হারিয়ে যেতে বসা সম্পর্কের সুতো পুনর্নির্মাণের এক অনন্য প্রয়াস।

শেষমেষ, এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, সময়ের স্রোত যতই বয়ে যাক, প্রকৃত বন্ধুত্ব চিরকাল অমলিন থেকে যায়। স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও আনন্দের মিলনসন্ধ্যা কুমারখালীর ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।