মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে পুলিশ বুধবার রাতে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে বড়লেখা পৌরসভার পূর্ব গাজিটেকা মসজিদের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় রাসেলের দুই সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদ হাসান রাসেল বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল (মধ্য ডিমাই) গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকার স্থানীয় যুবক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার বড় চালান আসার খবর গোপন সংবাদের মাধ্যমে পেয়েছে বড়লেখা থানা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ওসি মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই ফজলে আজিম, সন্তোষ কুমার বিশ্বাস, সুলতান আহমদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
অভিযানকালে মাহমুদ হাসানের কাছ থেকে ২০টি প্যাকেটে রাখা মোট চার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ রাসেলের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন হিরো মোটরসাইকেল এবং একটি রেডমি মুঠোফোন জব্দ করে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুইজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় বড়লেখা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নিচের টেবিলে অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| ধারা | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) |
| বাড়ি | বড়লেখা সদর ইউনিয়ন, বিওসি কেছরিগুল (মধ্য ডিমাই) |
| অভিযানকারী | ওসি মনিরুজ্জামান খান নেতৃত্বে বড়লেখা থানা পুলিশ |
| অংশ নেওয়া সদস্য | এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই ফজলে আজিম, সন্তোষ কুমার বিশ্বাস, সুলতান আহমদ |
| উদ্ধারকৃত ইয়াবা | ৪,০০০ পিস (২০ প্যাকেট) |
| জব্দকৃত মালামাল | হিরো মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশনবিহীন), রেডমি মুঠোফোন |
| আনুমানিক মূল্য | ১২ লাখ টাকা |
| সহযোগী পলাতক | ২ জন (পরিচয় শনাক্ত) |
| মামলা | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রক্রিয়াধীন |
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান জানান, এই অভিযান অঞ্চলের মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পলাতক সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ পুলিশের তৎপরতা এবং মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশংসা করেছে।
