বটতলী দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের গুন্ধীপ পাড়া এলাকায় রোববার সকাল ১১টার দিকে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন থেকে দুই শ্রমিক নিচে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মৃতরা হলেন সিয়াম (১৯) কুষ্টিয়া জেলা এবং আনিস (২৫) রাজশাহী জেলার বাসিন্দা। তারা দুজনই ছয় মাস ধরে স্থানীয় ঠিকাদার মোহাম্মদ ছৈয়দ নূরের অধীনে কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত মতে, সকাল ১০টার দিকে ছয়জন শ্রমিক ছয়তলা ভবনের পলেস্তারার কাজ শুরু করেন। সিয়াম ও আনিস রেলিংয়ে কাজ করছিলেন। হঠাৎ রেলিং ভেঙে তারা নিচের মাচায় পড়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত, মাচাটিও ভেঙে যায়। ফলে সিয়াম ঘটনাস্থলেই মারা যান, আর আনিস আহত অবস্থায় আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জুনাইদ ইসলাম বলেন, “আমরা দুজন ভেতরে এবং চারজন বাইরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ রেলিং ভেঙে দুজন নিচে পড়ে যায়।”

হাসপাতাল ও পুলিশি ব্যবস্থা

আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুনতাসির জাহিন জানান, দুই শ্রমিকের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানবটতলী ইউনিয়ন, গুন্ধীপ পাড়া, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম
সময় ও তারিখ১১:০০ পূর্বাহ্ন, রোববার
নিহতসিয়াম (১৯), আনিস (২৫)
শ্রমিকদের জন্মস্থানকুষ্টিয়া ও রাজশাহী
কাজের প্রকৃতিপলেস্তারার কাজ, ছয়তলা ভবন
প্রত্যক্ষদর্শীজুনাইদ ইসলাম ও অন্যান্য শ্রমিক
ঠিকাদারমোহাম্মদ ছৈয়দ নূর
হাসপাতালআনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ চলাকালে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। রেলিং এবং মাচার যথাযথ সংযুক্তি না থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকার মানুষ ও শ্রমিক নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুজন শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার মাধ্যমে নির্মাণশিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।