বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তোজাম্মেল হোসেন হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এই রায় ঘোষণা করেছেন বগুড়ার সিনিয়র দায়রা জজ মো. শাজাহান কবীর।
মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাজেদুর রহমান পিন্টু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার পরবর্তী সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত জানিয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শান্ত নামের এক আসামিকে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নাম এবং বয়সের তালিকা নিম্নরূপ:
| সাজা | আসামির নাম | বয়স |
|---|---|---|
| মৃত্যুদণ্ড | মনিরুজ্জামান (মিশু) | ৩০ |
| মৃত্যুদণ্ড | বাবুল প্রাং (আবুল কালাম আজাদ) | ৩৫ |
| মৃত্যুদণ্ড | মানিক | ৩২ |
| যাবজ্জীবন | দেলোয়ার হোসেন (দলু) | ৬৮ |
| যাবজ্জীবন | মাজেদুর রহমান (পিন্টু) | ৪৬ |
| যাবজ্জীবন | আশিক | ৩০ |
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর বিকেলে তোজাম্মেল হোসেনকে গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বৈঠাভাঙা মোড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। নিহত তোজাম্মেল হোসেন গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান মোল্লার ছেলে ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত থেকে ফেরার পথে চারমাথা মোড়ে রামদা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল জমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতা। মামলার বাদী ছিলেন নিহতের বড় ভাই মমিন। সিআইডি তদন্তে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতের রায়ে নিহতের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এই রায় স্থানীয়দের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “যতদিন বিচার না হত, আমাদের ক্ষতিপূরণ ছিল অচল। এখন আদালতের রায়ে কিছুটা শোক শান্তি পেয়েছি।”
সামগ্রিকভাবে, আদালতের এই রায় প্রমাণ করে, দীর্ঘ সময়ের পরও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
