আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির সময় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে তিন রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে, যাতে লেখা ছিল—‘১৩ তারিখ লকডাউন, ইউনুস হটাও দেশ বাঁচাও, মশাল মিছিল সার্থক হোক’। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা নৌঘাটসংলগ্ন গ্রোয়েনবাঁধ এলাকায়। সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের সদস্যরা টহলকালে তিন যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যানারটি উদ্ধার করা হয়, যা কর্মসূচির প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয় বলে সেনা কর্তৃপক্ষ মনে করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন—সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের আওলাকান্দি গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে সম্পদ মিয়া (২১), ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ওয়েদ আলীর ছেলে সোহাগ মিয়া (১৮) এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে হৃদয় হাসান (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সুফিয়ানের নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত পেট্রোল চলাকালে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন এবং জনদুর্ভোগের ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। এই প্রেক্ষাপটে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগের স্লোগান সম্বলিত একটি ব্যানারসহ তিনজন বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং বগুড়া জেলার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ জানান, কালিতলা নৌঘাট ও গ্রোয়েনবাঁধ এলাকা নদীপাড়সংলগ্ন হওয়ায় এখানে লোকসমাগম তুলনামূলক কম থাকে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি বা গোপন বৈঠকের জন্য এ ধরনের স্থান বেছে নেওয়ার প্রবণতা আগে থেকেও দেখা গেছে। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ নজরদারির কারণে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য তাদের নয়; বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধ করাই মূল লক্ষ্য। আসন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিচের সারণিতে ঘটনাটির মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
