রাজধানীর পুরান ঢাকার জনবহুল বংশাল এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সকাল থেকেই ব্যস্ততার ঊর্ধ্বে বংশাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি বিশেষভাবে নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত। কেন্দ্রটিতে উপস্থিত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মাসুদুল ইসলাম জানান, “এখানে সকল ভোটার নারী। এছাড়া কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের এজেন্টরাও সবাই নারী। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
দুপুরে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করা যায়, যেখানে দেখা যায় নারী ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছন্দভাবে ভোট দিচ্ছেন। গৃহিণী শিরীন আক্তার বলেন, “২০১৪ সালের পর ভোট দিতে পারিনি। আজ আবার ভোট দেওয়ায় অনেকটা আনন্দিত বোধ করছি। এখানে কোনো সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা হয়নি।”
কেন্দ্রটিতে মোট চারটি ভোটকক্ষ রয়েছে। এককক্ষ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরা নারী ভোটার নারী পোলিং কর্মকর্তা এবং নারী এজেন্টদের দ্বারা পরিচয় নিশ্চিত করে ভোট দিচ্ছেন। ভোটারদের কোনোরকম আপত্তি বা অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি।
এতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রটি নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বংশাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের তথ্যসংক্ষিপ্ত টেবিল:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কেন্দ্রের নাম | বংশাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় |
| কেন্দ্রের ধরণ | নারী ভোটার কেন্দ্র |
| প্রিসাইডিং কর্মকর্তা | মো. মাসুদুল ইসলাম |
| সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা | নারী, সংখ্যা ২ |
| পোলিং কর্মকর্তা | নারী, সংখ্যা ৮ |
| এজেন্ট | নারী, সব দলের |
| ভোটকক্ষ সংখ্যা | ৪ |
| ভোটার ধরন | নারী |
| সকাল থেকে উপস্থিতি | ভালো, কোনো অভিযোগ নেই |
কেন্দ্রটি প্রদর্শন করছে কিভাবে নারী ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার ভয়মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারে। বিশেষভাবে নারী কর্মকর্তা ও এজেন্টদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ভোটাররা উল্লেখ করেছেন যে, এমন ধরনের কেন্দ্র নারী ভোটারদের অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করবে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় বংশাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এই উদাহরণ নারীর ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি অনন্য নজির হয়ে থাকবে।
