কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের দাপুটে জয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের আরেকটি প্রমাণ দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচে জয়ই একমাত্র আলোচনার বিষয় ছিল না; বরং বেশি আলোচিত হয়েছে দলটির বিস্ময়কর বেঞ্চ শক্তি। কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচের আগে বড় ধরনের চমক দেন—ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে প্রায় পুরো দল বদলে নামান তিনি। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এমন রদবদল আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব একটা দেখা যায় না।
এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল মূলত স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই করা এবং নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ করে দেওয়া। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়ে জোড়া গোল করে নজর কাড়েন, আর মিডফিল্ডে ওয়ারেন জায়ার এমিরি দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতা দেখিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ফ্রান্সের বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও মূল একাদশের সমমানের দক্ষতা ধারণ করেন।
চোটের কারণে ব্র্যাডলি বারকোলা, জুলেস কুন্ডে এবং উইলিয়াম সালিবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা দলে না থাকলেও ফ্রান্সের শক্তিতে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং তাদের অনুপস্থিতিতে নতুনদের সুযোগ দিয়ে দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছেন দেশম।
ট্রান্সফার মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল ম্যাচে বেঞ্চে থাকা ফরাসি খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ইউরো। যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি বিরল উদাহরণ। নিচে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের তালিকা ও আনুমানিক বাজারমূল্য তুলে ধরা হলো—
| পজিশন | খেলোয়াড় | বাজারমূল্য (মিলিয়ন ইউরো) |
|---|---|---|
| গোলকিপার | ব্রাইস সাম্বা | ৮ |
| গোলকিপার | লুকাস শেভালিয়ের | ৩০ |
| ডিফেন্ডার | ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স | ৪০ |
| ডিফেন্ডার | লুকাস হার্নান্দেস | ২০ |
| ডিফেন্ডার | লুকাস ডিগনে | ৮ |
| ডিফেন্ডার | পিয়েরে কালুলু | ৩২ |
| মিডফিল্ডার | এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা | ৫০ |
| মিডফিল্ডার | এন’গোলো কান্তে | ৪.৫ |
| মিডফিল্ডার | ওয়ারেন জায়ার এমিরি | ৬০ |
| মিডফিল্ডার | ম্যাগনেস আকলিওচে | ৫০ |
| মিডফিল্ডার | রায়ান শেরকি | ৬৫ |
| ফরোয়ার্ড | দিজিরে দুয়ে | ৯০ |
| ফরোয়ার্ড | মার্কাস থুরাম | ৫০ |
| ফরোয়ার্ড | র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি | ২২ |
এই বিশাল মূল্যের বেঞ্চ শুধু পরিসংখ্যানগত দিক থেকেই নয়, কৌশলগতভাবেও ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মানসম্মত খেলোয়াড় বদলি করার সুযোগ থাকায় দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত নিজেদের কৌশল পাল্টাতে পারে।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপা হারানোর ক্ষত এখনো তাজা। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়েই দেশম এখন দলকে আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে গড়ে তুলছেন। নতুন ও পুরোনোদের সমন্বয়ে তৈরি এই স্কোয়াড ফ্রান্সকে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
সব মিলিয়ে, শুধু মূল একাদশ নয়—ফ্রান্সের বেঞ্চও এখন তাদের বড় অস্ত্র। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন গভীরতা খুব কম দলই দেখাতে পারে, যা ভবিষ্যতের বড় আসরগুলোতে ফরাসিদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
