চৌদ্দ বছর পেরিয়ে গেলেও ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুনের হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও অধরাই থেকে গেছে। ফেলানীর পরিবার আজও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নিঃশব্দ কান্না ও বিষণ্ণতার মধ্যে তার পিতা নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভারত ও বাংলাদেশের আদালতে বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু বিচার এখনো অধরা। যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমি চাই ফেলানীর হত্যাকাণ্ডকে সঠিকভাবে বিচার করা হোক। ন্যায়বিচার না দেখলে আমার মন শান্ত হবে না।”
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানীকে বার্ড-ওয়্যার বর্ডার ক্রস করার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-এর সদস্য অমীয় ঘোষ গুলি করে হত্যা করেন। তখন তার পিতা নুরুল ইসলামের সঙ্গে তিনি সীমান্ত পার হচ্ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফেলানীর দেহ পাঁচ ঘণ্টা বেড়াজালে ঝুলে থাকায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং সীমান্ত এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজর কাড়ে।
নুরুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের পরিবার কাজের খোঁজে ভারতে গিয়েছিল। ফেলানীর বিয়ের আয়োজন হয়ে যাওয়ায় আমরা বাড়ি ফিরছিলাম, তখন সীমান্তে এই শোকাবহ ঘটনা ঘটে।” ফেলানীর মা জাহানারা বেগম আরও বলেন, “BSF আমার মেয়েকে হত্যা করেছে এবং আমাদের হৃদয়ে এক অপূর্ণ শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। চৌদ্দ বছর পেরিয়ে গেছে, তবু ন্যায়বিচার হয়নি। আমি এখনও আশা রাখি সত্য প্রকাশ পাবে এবং দোষীদের বিচার হবে।”
আইনগত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগিয়েছে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট BSF-এর বিশেষ আদালত, কুচবিহারে প্রথম ট্রায়াল শুরু হয়। কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে অভিযুক্ত অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আপত্তির পর ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় মামলা খোলার পরও তিনি আবার খালাস পান।
২০১৫ সালের ১৪ জুলাই, নুরুল ইসলাম ‘মাসুম’ মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। বহু শুনানির পরেও মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
ফেলানী খাতুন নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগমের আট সন্তানদের মধ্যে বড় ছিলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী তখন পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করছিলেন। পরিকল্পিত বিয়ের জন্য বাড়ি ফিরার পথে তার জীবন ভয়ানকভাবে শেষ হয়।
ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত ব্যক্তি | ফেলানী খাতুন |
| জন্ম সাল | ১৯৯৬ |
| মৃত্যু বয়স | ১৫ বছর |
| মৃত্যু তারিখ | ৭ জানুয়ারি ২০১১ |
| স্থান | ফুলবাড়ি, কুড়িগ্রাম / ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত |
| অভিযুক্ত | অমীয় ঘোষ (ভারতীয় BSF সদস্য) |
| প্রথম ট্রায়াল | ১৩ আগস্ট ২০১৩, BSF বিশেষ আদালত, কুচবিহার, ভারত |
| খালাস | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ও ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ |
| হাই কোর্ট আবেদনের তারিখ | ১৪ জুলাই ২০১৫, ভারতীয় হাই কোর্ট (মাসুম সংস্থা মাধ্যমে) |
| পরিবার | পিতা-মাতা ও সাতটি ছোট ভাইবোন; ফেলানী বড় সন্তান |
ফেলানীর হত্যাকাণ্ড সীমান্তে সহিংসতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিচার প্রক্রিয়ার একটি বেদনাদায়ক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার এখনও শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে, এবং তারা এখনো আশা রাখে যে একদিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
