ফেনীতে ঘুষের অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আটক

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আল সাঈদ এবং তাঁর কার্যসহকারী আবু নাসেরকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাতেনাতে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পিআইও কার্যালয় থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীতে পরিচালিত পাঁচটি সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর উপঠিকাদার হুমায়ুন কবির বিল দাখিল করেন। বিলের অর্থ ছাড়ের জন্য যোগাযোগ করলে, পিআইও মোহাম্মদ আল সাঈদ ও তার সহকারী কার্যসহকারী আবু নাসের ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

উপঠিকাদার ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিলের অর্থ আটকে রাখা হয়। পরে উপঠিকাদার প্রথম দফায় ৫.৫ লাখ টাকা দেন এবং বাকি ১ লাখ টাকা দেওয়ার সময় আজ দুপুরে পিআইও কার্যালয়ে উপস্থিত হলে দুদক দল আগে থেকে ওত পেতে থাকা অবস্থায় তাঁদের হাতেনাতে আটক করে। সেই সঙ্গে ঘুষের ১ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবির ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে আজকের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফারুক আহমেদের মতে, পিআইও মোহাম্মদ আল সাঈদ এর আগে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আরও ৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এটি ফেনীর সরকারি প্রকল্পে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির একটি গুরুতর চিত্র উপস্থাপন করছে।

সোনাগাজী প্রকল্পে ঘুষ সংক্রান্ত সংক্ষেপ

কর্মকর্তা/সহকারীকর্মকাণ্ড/অভিযোগঘুষের পরিমাণ (টাকা)মন্তব্য
মোহাম্মদ আল সাঈদপিআইও, সেতু প্রকল্পের অনুমোদন৫,০০,০০০ (আগে) + ১,০০,০০০ (হাতেনাতে)হাতেনাতে ধরা পড়েছেন
আবু নাসেরকার্যসহকারী, ঘুষ গ্রহণে সহায়তা১,০০,০০০দুদকের অভিযানে আটক
হুমায়ুন কবিরউপঠিকাদার, বিল দাখিল৬,৫০০,০০০ প্রদান করেছেনলিখিত অভিযোগের সূত্র

দুদকের এই অভিযান ফেনীতে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে স্থানীয় প্রকল্পের কার্যক্রমে ঘুষ ও অনিয়মের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

ফেনী জেলা প্রশাসনও এই ঘটনায় নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আটক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে এবং জেলা প্রশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।