এশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলো ফিলিপাইন নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের প্লে-অফে উজবেকিস্তান-কে ২-০ গোলে হারিয়ে আগামী বছরের ফিফা নারী বিশ্বকাপ ২০২৭-এ অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। এই অর্জন ফিলিপাইনের জন্য বিশেষ, কারণ এটি তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নারী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ঘটনা।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে। খেলায় মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফিলিপাইন। ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে অ্যাঞ্জেলা বিয়ার্ডের নিখুঁত ভলিতে ফিলিপাইন এগিয়ে যায়। এরপর জ্যাকলিন সাওয়িকির হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। উজবেকিস্তান এরপর কোনোভাবে ফিরতে পারেনি, ফলে ফিলিপাইন জয়ী দল হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ফিলিপাইনের এই সাফল্য শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের জন্য এক প্রেরণা। সাম্প্রতিক সময়ে দল ধারাবাহিক উন্নতি করেছে, যা প্রমাণিত হয় ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে। সেই বিশ্বকাপে ফিলিপাইন একটি ম্যাচ জিতলেও দুটি হেরে গ্রুপের তলানিতে শেষ করেছিল, কিন্তু এবার তারা নতুন আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বর্তমানে ৪০তম স্থানে থাকা ফিলিপাইন নারী দল উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে অস্ট্রেলিয়ান কোচ মার্ক টরকাসো-এর নেতৃত্বে। গত বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে দলটির এই উন্নতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালে ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে আরও একটি প্লে-অফ ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে উত্তর কোরিয়া ও তাইওয়ান। যদিও হেরেছে, তবু উজবেকিস্তানের সামনে এখনও আন্তর্জাতিক প্লে-অফের মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে।
নিচের টেবিলে ফিলিপাইনের বিশ্বকাপ যোগ্যতার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দল | ফিলিপাইন নারী ফুটবল দল |
| বিশ্বকাপ যোগ্যতা নিশ্চিত | ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপ |
| প্লে-অফ ম্যাচ | উজবেকিস্তান ০-২ ফিলিপাইন |
| গোলকারা | অ্যাঞ্জেলা বিয়ার্ড, জ্যাকলিন সাওয়িকি |
| বিশ্ব র্যাংকিং | ৪০তম |
| প্রধান কোচ | মার্ক টরকাসো |
| ইতিহাসে বিশ্বকাপে অংশ | দ্বিতীয়বার |
| ২০২3 বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স | ১ জয়, ২ হার, গ্রুপ পর্বে শেষ |
আগামী শনিবার এশিয়ান কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফিলিপাইন দল এবার আরও অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক মান বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের পথ সুগম করবে।
