অ্যানফিল্ডে লিভারপুল–ব্রাইটন ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠে বারবার শোনা যাচ্ছিল—‘আবারও বেঞ্চে সালাহ’। বাজে ফর্ম ও ক্লাব–সমালোচনার কারণে টানা দুই ম্যাচ বাইরে থাকার পরও আজ শুরুতে একাদশে জায়গা হয়নি মিসরীয় সুপারস্টারের। কিন্তু ম্যাচের ২৬ মিনিটেই দৃশ্যপট বদলে যায়। জো গোমেজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়লে আর্নে স্লট বাধ্য হন সালাহকে মাঠে নামাতে। আর সেই বদলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ফিরেই নিজের জাত চেনান সালাহ। গোল না পেলেও লিভারপুলের ২–০ জয়ে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিকও বটে। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিতে সহায়তা করে প্রিমিয়ার লিগে নতুন এক ক্লাব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। উগো একিতিকের করা দুই গোলেই নিশ্চিত হয় লিভারপুলের জয়।
ম্যাচের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। খেলা শুরুর এক মিনিটও পেরোয়নি, এর মধ্যেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। জো গোমেজের হেড থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন একিতিকে। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের পর দারুণ এক ভলিতে ব্রাইটন গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল পেল লিভারপুল।
দ্বিতীয় গোলটি আসে ৬০ মিনিটে। কর্নার থেকে সালাহর নেওয়া বল নিখুঁতভাবে হেড করে জালে পাঠান একিতিকে। এই সহায়তার মাধ্যমেই সালাহ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের হয়ে মোট ২৭৭টি গোলে অবদান রাখলেন—যার মধ্যে ১৮৮টি গোল ও ৮৯টি অ্যাসিস্ট। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভেঙে দিলেন ওয়েইন রুনির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে রুনি করেছিলেন ২৭৬ গোলে অবদান।
আট ম্যাচ পর লিভারপুলের কোনো গোলে অবদান রাখলেন সালাহ। যদিও এই আট ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে তিনি খেলতেই নামেননি। তবু মাঠে ফিরেই রেকর্ড গড়ে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড় কীভাবে প্রভাব ফেলেন।
এই জয়ে ১৬ ম্যাচে লিভারপুলের পয়েন্ট দাঁড়াল ২৬। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা উঠে এসেছে লিগ টেবিলের ছয় নম্বরে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাইটন নেমে গেছে নবম স্থানে।
একই সময়ে অনুষ্ঠিত আরেক ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এভারটনকে ২–০ গোলে হারিয়েছে চেলসি। ২১ মিনিটে কোল পালমারের গোলেই এগিয়ে যায় লন্ডনের ক্লাবটি—সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল প্রিমিয়ার লিগে তাঁর প্রথম গোল। ৪৫ মিনিটে মালো গুস্তোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে চেলসি। এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে চেলসি উঠে এসেছে চার নম্বরে, আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এভারটন নেমে গেছে আটে।
ম্যাচ ও রেকর্ডের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | লিভারপুল ২–০ ব্রাইটন |
| গোলদাতা | উগো একিতিকে (২) |
| অ্যাসিস্ট | মোহাম্মদ সালাহ (১) |
| সালাহর মোট অবদান (PL) | ২৭৭ গোল (১৮৮G + ৮৯A) |
| ভাঙা রেকর্ড | ওয়েইন রুনি (২৭৬) |
| লিভারপুলের পয়েন্ট | ২৬ (১৬ ম্যাচ) |
| ব্রাইটনের পয়েন্ট | ২৩ (১৬ ম্যাচ) |
সালাহর প্রত্যাবর্তন, একিতিকের জোড়া গোল আর নতুন রেকর্ড—সব মিলিয়ে অ্যানফিল্ডের রাতটা লিভারপুল সমর্থকদের জন্য হয়ে উঠেছে স্মরণীয়।