২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দীপনা নজিরবিহীন। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে ৫০ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। যদিও টিকিটের দামকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে, তা চাহিদাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশ ও অঞ্চলের সমর্থকরা আবেদন করেছেন। লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার। ফিফা জানিয়েছে, কোন আবেদন সফল হয়েছে, তা ঘোষণা করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি টিকিটের চাহিদা এসেছে স্বাগতিক দেশগুলোর বাইরে নিম্নলিখিত দেশগুলো থেকে: জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া। বিশেষ করে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের চাহিদা সর্বোচ্চ। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুন।
নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং টিকিটের চাহিদার ধরন সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | শহর / স্টেডিয়াম | ম্যাচ | চাহিদার ধরন |
|---|---|---|---|
| ১৮ জুন | গুয়াদালাহারা | মেক্সিকো – দক্ষিণ কোরিয়া | উচ্চ চাহিদা |
| ২৭ জুন | মায়ামি | কলম্বিয়া – পর্তুগাল | সর্বোচ্চ চাহিদা |
| ১৯ জুলাই | নিউ জার্সি | বিশ্বকাপ ফাইনাল | উচ্চ চাহিদা |
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “এক মাসেরও কম সময়ে অর্ধশত কোটি টিকিটের আবেদন শুধু চাহিদারই প্রতিফলন নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসার স্পষ্ট প্রমাণ। আমরা এই অভূতপূর্ব সাড়ার জন্য সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানাই। তবে দুঃখজনকভাবে স্টেডিয়ামে আমরা সকল সমর্থককে জায়গা দিতে পারছি না।”
২০২৬ সালের ৪৮ দলের বিশ্বকাপের টিকিট মূল্যের কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে ফিফা। সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘আকাশছোঁয়া’ বলে অভিহিত করেছে। ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই)’ জানিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে গেছে। এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে ফিফা ৬০ ডলার (প্রায় ৭,৩৩৭ টাকা) মূল্যের নতুন কম দামের টিকিট শ্রেণি চালু করেছে।
ফিফা আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবারও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
