আমেরিকান র্যাপ ও সংগীত প্রযোজনার জগতে আলোচিত তারকা ক্যানিয়ে ওয়েস্ট তাঁর বহু প্রতীক্ষিত দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম “বুলি” থেকে নতুন একক গান “অল দ্য লাভ” প্রকাশ করে আবারও বিশ্বসংগীত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। গত শুক্রবার প্রকাশিত এই গানটি শুধু সংগীতগত কারণে নয়, বরং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্যাম্পল ব্যবহারের কারণেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গানটিতে ব্যবহৃত হয়েছে লেবাননের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফাইরুজ-এর ১৯৬৩ সালের ক্লাসিক “ফাইয়েক আলাইয়া” এর অংশবিশেষ। এই গানটি আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। মূল গানটি রচিত হয়েছিল রহমানি ব্রাদার্সের হাতে এবং এটি একটি মিউজিক্যাল নাটকের অংশ, যেখানে শৈশব, স্মৃতি ও নস্টালজিয়ার আবেগময় প্রকাশ ফুটে উঠেছে।
নতুন গানে স্যাম্পলিং প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছেন ক্যানিয়ে ওয়েস্টের দীর্ঘদিনের সহযোগী ও টকবক্স উদ্ভাবনের পথিকৃৎ অ্যান্ড্রু ট্রাউটম্যান। তাঁদের যৌথ প্রযোজনায় ফাইরুজের কণ্ঠকে বিকৃত ও গসপেল-অনুপ্রাণিত সাউন্ডস্কেপে রূপান্তর করা হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে একই সঙ্গে পরীক্ষামূলক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংগীত সাময়িকী বিলবোর্ড গানটিকে অ্যালবামের অন্যতম শক্তিশালী অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অ্যালবাম “বুলি” প্রকাশের পথ ছিল বেশ জটিল ও অনিশ্চিত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণার পর এটি একাধিকবার বিলম্বিত হয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষামূলক সংস্করণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে ক্যানিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা বিতর্ক, বিশেষ করে অতীতে দেওয়া ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখিও হন এবং পরে একটি পূর্ণ পৃষ্ঠার ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ করেন।
ফাইরুজ, যিনি ১৯৩৫ সালে বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন, আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত। তাঁর কণ্ঠকে অনেকেই কেবল সংগীত নয়, বরং স্মৃতি, জাতীয় পরিচয় এবং সম্মিলিত আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখেন। ফলে তাঁর সংগীত ব্যবহার সব সময়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীর সাংস্কৃতিক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পী ফাইরুজের সংগীত স্যাম্পল করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে, যেখানে ভিন্ন ঘরানার শিল্পীরা তাঁর কণ্ঠকে নতুন প্রেক্ষাপটে পুনর্ব্যাখ্যা করছেন।
নিচে ফাইরুজের সংগীত ব্যবহারের কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
| শিল্পী | গান | ব্যবহৃত ফাইরুজের গান | বছর |
|---|---|---|---|
| ক্যানিয়ে ওয়েস্ট | অল দ্য লাভ | ফাইয়েক আলাইয়া | ২০২৬ |
| ম্যাকলমোর | হিন্ডস হল | আনা লা হাবিবি | ২০২৪ |
| ড্রেক | আইসম্যান | ওয়াহদুন | ২০২৫ |
| ম্যাডোনা | এরোটিকা | ইয়েল ইয়োম ওলিকা | ১৯৯২ |
সমালোচকদের মতে, ফাইরুজের সংগীতের এই পুনর্ব্যবহার কেবল স্যাম্পলিং নয়, বরং পূর্ব ও পশ্চিমের সংগীত সংস্কৃতির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে। ক্যানিয়ে ওয়েস্টের নতুন গান সেই ধারাবাহিকতারই আধুনিক ও বিতর্কিত এক সম্প্রসারণ, যা বৈশ্বিক সংগীতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক আলোচনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
