টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের ওপেনিং ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা ছিলেন দলীয় মূল অস্ত্র। আইসিসির সাম্প্রতিক ব্যাটসম্যান র্যাঙ্কিংয়ে এখনও তিনিই শীর্ষে রয়েছেন। তবু ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ অভিষেককে ফাইনাল ম্যাচ থেকে বিশ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অভিষেকের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে দলের জন্য পরিবর্তন আনা যুক্তিযুক্ত হবে।
অভিষেকের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স
অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচে তিনি মাত্র ৮৯ রান করেছেন। তার মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫৫ রানের। বাকি ছয় ম্যাচে রান করেছেন যথাক্রমে: ০, ০, ০, ১৫, ১০, ৯। এই তথ্য দেখলে স্পষ্ট হয় কেন কাইফ তার একাদশে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
| ম্যাচ | রান |
|---|---|
| জিম্বাবুয়ে | ৫৫ |
| পাকিস্তান | ০ |
| অস্ট্রেলিয়া | ০ |
| নিউজিল্যান্ড | ০ |
| শ্রীলঙ্কা | ১৫ |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ১০ |
| ইংল্যান্ড | ৯ |
কাইফ তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, “ভারত অভিষেক শর্মাকে বিশ্রাম দিতে পারে। ও এখন পর্যন্ত অনেক ম্যাচ খেলেছে। পরিবর্তন কোনো ক্ষতি করবে না। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ব্রেন্ডন কিংও অফ ফর্মে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বিরতি পেয়েছিল। স্যামসনকে (Sanju Samson) দলে আনার পরিবর্তন দলের জন্য কার্যকর হয়েছে।”
বিকল্প ও সম্ভাব্য একাদশ
অভিষেক বাদ পড়লে ওপেনিংয়ে ইশান কিষান সুযোগ পাবেন। কাইফ মনে করেন, অভিষেকের জায়গায় ডাগআউটে বসা অন্য পরীক্ষিত খেলোয়াড়রাও দলের জন্য কার্যকর হতে পারেন। তিনি বলেন, “রিংকু সিং সব ধরণের ক্রিকেটে রান করে—টেস্ট হোক, রঞ্জি ট্রফি হোক বা আইপিএল। কুলদীপ যাদব ও মোহাম্মদ সিরাজও সব কন্ডিশনেই উইকেট পেয়ে থাকেন। একজন খেলোয়াড় যখন রান করছে না, তখন ভালো ফর্মে থাকা অন্য খেলোয়াড়কে বাইরে রাখা যৌক্তিক নয়।”
অভিষেকের মতো ফর্মে নেই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। মজার বিষয় হলো, তিনিও আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে। তবে সেমিফাইনালে ৪ ওভারে ৬৪ রান খরচ করেছেন। কাইফ মনে করেন, বরুণকে ফাইনালে দলের বাইরে রাখা হবে না।
অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়ের পার্থক্য
কাইফ বলেন, “স্যামসনের সঙ্গে তুলনায় অভিষেক এখনো নতুন। আইসিসি টুর্নামেন্টে অভিষেকের অভিজ্ঞতা সীমিত। স্যামসন টি-টোয়েন্টিতে ৮০০০-এর বেশি রান করেছে এবং আইপিএলের সেরা খেলোয়াড়। অভিষেক তরুণ এবং নিজের খেলা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।”
কাইফের পরামর্শে বোঝা যায় যে, ভারতের ফাইনাল একাদশে পরিবর্তনের পেছনে শুধু ফর্ম নয়, অভিজ্ঞতার মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক বিশ্রাম পেলে দলের ব্যাটিং সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে।
