ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (জন্ম: ২৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭) বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী যিনি সিলেট-৫ আসনের সংসদ -সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী। সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৫৯ সালে দাখিল, ১৯৬৩ সালে আলিম, ১৯৬৫ সালে ফাজিল, ১৯৬৭ সালে কামিল পাস করেন। ১৯৭১ সালে সিলেট এমসি কলেজে বিএ পাস করেন এবং একই কলেজে বাংলা অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কর্মজীবন
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট নগরীর মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি সিলেট নগরীর পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, মেজরটিলার আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও জালাালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কানাইঘাটের তালবাড়ী ‘জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুুুুফিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি সিলেটের আল-হামরা ইন্টারন্যাশনাল শপিং সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ও আন-নূর প্রোপ্রাটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিক জীবন
একাত্তরে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট এমসি কলেজে বিএ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মাত্র কয়েক শত ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থির নিকট পরাজিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নাই।

সমালোচনা
২০০৮ সালে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিলে আলোচনায় আসেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর। ২০১০ সালে ৪০ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করে সরকার, যাতে ২৪ নম্বরে তাকে রাখা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিবাসন পুলিশকে একটি তালিকা দেওয়া হয়। সে তালিকায়ও তার নাম ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসে তার নাম সহ ৪০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা পাঠায় সরকার।