ফরিদপুরে মাছ ব্যবসায়ী হত্যা, ভ্যানচালককে বেঁধে রাখা হয়েছিল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় উৎপল সরকার (২৬) নামের এক স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। শুক্রবার দুপুরে সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান ঘটনাস্থল ও ঘটনার সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পরিদর্শক মারুফ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গৌরদিয়া গ্রামের কালীতলা ব্রিজের কাছে উৎপলের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

উৎপল ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রনকাইল গ্রামের অজয় কুমার সরকারের ছেলে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, “উৎপল নিয়মিত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে মাছ কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। নিহতের সঙ্গে এই ব্যবসার কারণে তার বহুদিনের লেনদেন ছিল। ওই দিন ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে মাছ কিনতে বাড়ি থেকে বের হন।”

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কালীতলা ব্রিজে অপর একটি ঘটনায় ভ্যানচালক ফিরোজ মোল্লাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তার চোখও বাঁধা ছিল। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা স্থানীয়দের সাহায্যে ফিরোজকে নিরাপদে রেখেছি।” ফিরোজ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

পুলিশ পরিদর্শক মারুফ বলেন, “উৎপলের মাথা এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছি—এটি কি পূর্ব শত্রুতার ফল, নাকি অর্থ লুটের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে।”

ঘটনার ক্রম ও প্রাথমিক তথ্য

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
নিহতউৎপল সরকার (২৬), মাছ ব্যবসায়ী
পরিবারের তথ্যফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রনকাইল গ্রামের অজয় কুমারের ছেলে
হত্যাকাণ্ডের সময়শুক্রবার ভোররাত ৪টা (উৎপল মাছ কেনার জন্য বের হওয়ার সময়)
স্থানআটঘর ইউনিয়নের গৌরদিয়া গ্রামের কালীতলা ব্রিজ
পুলিশ তদন্তসুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো
সাক্ষী ও আহতভ্যানচালক ফিরোজ মোল্লা; চোখ বাঁধা ও বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার
সন্দেহভাজন সংখ্যা৩–৪ জন
সম্ভাব্য উদ্দেশ্যপূর্ব শত্রুতা অথবা অর্থ লুট

স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও হঠাৎ ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলছে এবং আশপাশের এলাকায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এই ধরনের হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রাথমিকভাবে বলেছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।