ফরিদপুরে পিকআপ-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৩

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের দ্রুত উদ্যোগে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা সোমবার দুপুর তিনটার দিকে বোয়ালমারী পৌর সদরের সোতাশি এলাকায় কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনে ঘটে। নিহতরা হলেন বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্লার দুই ছেলে জব্বার মোল্লা ও মুছা মোল্লা এবং একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুট মিলে কাজ শেষ করে ১৫ জন শ্রমিক ওই পিকআপে করে বোয়ালমারী পৌর সদরের দিকে ফিরছিলেন। সোতাশি এলাকায় পৌঁছালে কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া গামী লোকাল ট্রেনের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের বাড়ির সামনেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাজার থেকে বাড়িতে এসে দুপুরে খাবারের জন্য বসেছি, তখন হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি, ট্রেনের সঙ্গে শ্রমিকবাহী পিকআপের সংঘর্ষে তিনজন মারা গেছেন। আহতদের হাসপাতাল নেওয়া হয়েছে।”

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন।

নিচের টেবিলটি দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরছে:

নামবয়স (প্রায়)গ্রাম/পাড়াঅবস্থা
জব্বার মোল্লা২৮বিলকরাইলনিহত
মুছা মোল্লা২৫বিলকরাইলনিহত
জাহানারা বেগম৩২বিলকরাইলনিহত
আহত শ্রমিক/নারী-পুরুষ১৫বিভিন্নহাসপাতালে ভর্তি

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ে সিগনাল ও সেতু সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

এই ঘটনায় ফরিদপুরের স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে শ্রমিক ও যাত্রী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।