ফরিদপুর জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার মোল্লা (৩১) ব্যক্তিগত কারণে তার পদ থেকে হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন। সোমবার দুপুরে তিনি জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ককে একটি সংক্ষিপ্ত দুই লাইনের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে হায়দার মোল্লা লিখেছেন:
“আমি, হায়দার মোল্লা, ফরিদপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার পদ থেকে পদত্যাগ করছি। পার্টির সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের আমার সাথে যোগাযোগ না করার জন্য অনুরোধ করছি।”
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হায়দার মোল্লা আরও বিস্তারিত জানিয়েছেন, “ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব এবং পারিবারিক কারণে আমি দীর্ঘ বিবেচনার পর এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপাতত রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করব না।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার পদত্যাগ কোনো অভ্যন্তরীণ সংঘাত বা দলের অমিলের কারণে নয়।
জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হায়দার মোল্লার পদত্যাগ আমরা গ্রহণ করেছি। এটি এখন কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরণ করা হবে এবং দলের সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অধিকার রয়েছে।”
ফরিদপুর জেলা এনসিপি আহ্বায়ক কমিটি ৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এতে মোট ১০১ জন সদস্য ছিলেন। দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসানাত আবদুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য-সচিব আখতার হোসেন এর অনুমোদন প্রদান করেছিলেন।
নিচের টেবিলে হায়দার মোল্লার পদত্যাগের মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| পদত্যাগকারী সদস্য | হায়দার মোল্লা |
| বয়স | ৩১ বছর |
| পদবী | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফরিদপুর জেলা এনসিপি |
| পদত্যাগের তারিখ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| পদত্যাগের ধরন | সংক্ষিপ্ত দুই লাইনের চিঠি |
| পদত্যাগের কারণ | ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব ও পারিবারিক বিষয় |
| গ্রহণ করেছেন | শাহেদ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক |
| কমিটির মোট সদস্য | ১০১ |
| অনুমোদনকারী | হাসানাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেন |
যদিও পদত্যাগ ফরিদপুরের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, এটি জেলা এনসিপিতে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নতুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কমিটির অন্যতম youngest ও সক্রিয় নেতা হায়দার মোল্লার পদত্যাগ স্থানীয় দলের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তার এই পদত্যাগ ফরিদপুর জেলা এনসিপির জন্য একটি সংক্রমণকালীন সময়ের সূচনা করেছে, যা নেতৃত্বের কাঠামো ও সাংগঠনিক অংশগ্রহণের দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে জেলা স্তরের দলের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠন পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
