ফরাসি আল্পসে তুষারধসে প্রাণহানি বাড়ছে

ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় আবারও প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে তুষারধস। চলতি সপ্তাহে পৃথক দুটি স্থানে তুষারধসে দুই স্কিয়ারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর আগের সপ্তাহান্তেও অফ-পিস্ট স্কি ট্যুরিংয়ের সময় আরও দুইজন নিহত হন। ফলে চলতি মৌসুমে আল্পস অঞ্চলে তুষারধসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয় পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, গ্রেনোবলের নিকটবর্তী সাঁ-আগ্নেস এলাকায় সোমবার এক তুষারধসে ৩৮ বছর বয়সী এক স্কিয়ার প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা অপর এক স্কিয়ারকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিকভাবে নেমে আসা বরফের স্রোত মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে ফেলে।

অন্যদিকে, মনজেনেভর গ্রামের নিকটবর্তী একটি অফ-পিস্ট এলাকায় স্কি করার সময় ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বিশাল তুষারধসের কবলে পড়ে নিহত হন। তার সঙ্গী সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এর আগে গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি আল্পসের সর্বোচ্চ গ্রাম হিসেবে পরিচিত সাঁ-ভেরাঁর কাছে পৃথক এক তুষারধসে অফ-পিস্ট স্কি ট্যুরিংয়ে অংশ নেওয়া দুইজন নিহত হন। ওই এলাকায় তুষারস্তর অস্থিতিশীল ছিল বলে পরে বিশেষজ্ঞরা জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভারী তুষারপাতের পর তাপমাত্রার ওঠানামা এবং প্রবল বাতাসের কারণে তুষারের স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে করে অফ-পিস্ট বা নির্ধারিত ট্রেইলের বাইরে স্কি করার সময় ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফ্রান্সসহ সমগ্র আল্পস অঞ্চলে বর্তমানে তুষারধস সতর্কতার মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি মৌসুমে আল্পস অঞ্চলে তুষারধসে প্রাণহানির চিত্র নিম্নরূপ:

দেশতুষারধসে মৃতের সংখ্যা (চলতি মৌসুম)
ফ্রান্সউল্লেখযোগ্য সংখ্যা (মোটের অংশ)
সুইজারল্যান্ড
ইতালি
অস্ট্রিয়া
মোট (আল্পস অঞ্চল)অন্তত ২০ জন

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার আল্পস অঞ্চলে চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন স্কিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে অফ-পিস্ট স্কি ট্যুরিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো স্কিয়ারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তুষারধস ঝুঁকি সূচক যাচাই, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম বহন এবং অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তা ছাড়া দুর্গম এলাকায় প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তুষারস্তরের গঠন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে শীতকালীন পর্যটন জনপ্রিয় হলেও নিরাপত্তা সচেতনতা ও কঠোর বিধিনিষেধ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।