বীমা শিল্পের বৈশ্বিক মহীরুহ মেটলাইফ আবারও তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল। বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুন (Fortune) প্রকাশিত ২০২৬ সালের তালিকায় টানা সপ্তমবারের মতো বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠানের (World’s Most Admired Companies) স্বীকৃতি লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ‘ইন্স্যুরেন্স: লাইফ অ্যান্ড হেলথ’ ক্যাটাগরিতে মেটলাইফ শীর্ষস্থান দখল করে নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
ফরচুন ম্যাগাজিন গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান কর্ন ফেরি (Korn Ferry)-এর সাথে যৌথভাবে এই তালিকা তৈরি করে আসছে। এটি কেবল একটি সাধারণ তালিকা নয়, বরং করপোরেট জগতের সম্মান ও সক্ষমতার এক অনন্য মাপকাঠি। শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিচালক এবং আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা কঠোর পর্যালোচনার মাধ্যমে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় স্থান পেতে হলে প্রধানত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয়। মেটলাইফ এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। নিচে এই মূল্যায়নের প্রধান সূচকসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| মূল্যায়নের প্রধান সূচকসমূহ | মেটলাইফের বিশেষত্ব ও অবস্থান |
| উদ্ভাবনী ক্ষমতা | ডিজিটাল বীমা সেবা ও আধুনিক পলিসি চালুকরণে অগ্রগামী। |
| আর্থিক সক্ষমতা | স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী মূলধন কাঠামো। |
| দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনা | বিশ্বজুড়ে সেরা মেধাবীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার সক্ষমতা। |
| দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ মূল্য | বিনিয়োগকারীদের আস্থায় রেখে টেকসই মুনাফা নিশ্চিতকরণ। |
| পণ্যের গুণগত মান | গ্রাহকবান্ধব বীমা পরিকল্পনা ও দ্রুততম দাবি নিষ্পত্তি। |
| সামাজিক দায়বদ্ধতা | পরিবেশ ও সমাজের উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ। |
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিফলন
মেটলাইফের এই ধারাবাহিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মিশেল খালাফ। তিনি বলেন, “প্রায় ১৬০ বছর ধরে মেটলাইফ সাধারণ মানুষকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়ে আসছে। এই অর্জন আমাদের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা এবং বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমাদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা আমাদের গ্রাহক, সহকর্মী এবং সমাজের প্রতি যে অঙ্গীকার করেছি, এই স্বীকৃতি তারই সার্থক প্রতিফলন।”
বীমা খাতে মেটলাইফের প্রভাব
মেটলাইফ শুধু একটি বীমা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও বীমা খাতের আধুনিকায়নে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সচেতনতা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে আসছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতিতেও মেটলাইফ তাদের ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমানের গ্রাহক সেবা এবং স্বচ্ছতার কারণে মেটলাইফ বিনিয়োগকারী ও পলিসি গ্রাহক উভয়ের কাছেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের উদ্ভাবনী বীমা পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
