ফয়সাল করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির ধরা পড়ল র‍্যাবের হাতে

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। প্রধান অভিযুক্ত **ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী ‘দাঁতভাঙা কবির’**কে র‍্যাব নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। র‍্যাব-১১ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, কবির পটুয়াখালী সদর টিটকাটা এলাকার মৃত মোজাফফরের ছেলে, তবে রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন।

কবির আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আদাবর থানার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার মতো অভিযোগ। র‍্যাবের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শরিফ হাদিকে গুলির পর কবির প্রথমে গা ঢাকা দেন এবং ফতুল্লার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর র‍্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ৪ ডিসেম্বর কবির ফয়সাল করিমের সঙ্গে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে একাধিকবার দেখা করেন। হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর কবির, ফয়সাল ও আলমগীর পালিয়ে যান। কবিরকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে শরিফ হাদি একটি রিকশায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও বাইক চালক আলমগীর হোসেন। পুলিশ এ ঘটনায় ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেন।

শরিফ হাদিকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে সক্রিয় এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক ছিল, যা র‍্যাবের অভিযানেই আংশিকভাবে উদঘাটিত হলো।